অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
পঞ্চগড় সদর উপজেলা রাজমিস্ত্রি শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন পরাজিত প্রার্থীরা। ঘোষিত ফলাফল অবিলম্বে বাতিল করে ব্যালট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। শুক্রবার রাতে পঞ্চগড় জেলা শহরের জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়। নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধান না পেয়ে প্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি পদে পরাজিত প্রার্থী আব্বাস আলী, মই প্রতীকের সহসভাপতি প্রার্থী হাসান আলী বাবু, আনারস প্রতীকের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রশিদুল ইসলাম, তালাচাবি প্রতীকের দপ্তর সম্পাদক প্রার্থী ফারুক আলম ও কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী মকসেদ আলীসহ ইউনিয়নের সাধারণ শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সহসভাপতি পদের প্রার্থী হাসান আলী বাবু অভিযোগ করেন, তাঁকে ভোট দেওয়া বৈধ ব্যালট অবৈধভাবে বাতিল দেখিয়ে মাত্র তিন ভোটে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হারিয়েছে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই ব্যালট পুনর্গণনার লিখিত আবেদন করা হলেও সহকারী নির্বাচন কমিশনার সুভাষ চন্দ্র রায় কালক্ষেপণ ও টালবাহানা করছেন। অবিলম্বে এই পক্ষপাতদুষ্ট ফলাফল বাতিল করে নতুন করে গণনা শুরুর দাবি জানান তিনি।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রশিদুল ইসলাম জানান, তাঁর পোলিং এজেন্ট ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই ব্যালট বাক্স সিলগালা না দেখিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, কোনো স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করায় পুরো নির্বাচনটি চরম বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। ফলে অনিয়মের এই ফল বাতিল করে সাধারণ সম্পাদক পদের ব্যালট বাক্স পুনর্গণনা করা ছাড়া বিকল্প নেই।
কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী মকসেদ আলী অভিযোগ তুলে বলেন, সদস্য পদের ব্যালটে তিনটি করে সিল মারার সুনির্দিষ্ট নিয়ম ছিল। কিন্তু অনেক ভোটার একটি বা দুটি সিল দেওয়া সত্ত্বেও সেই ব্যালটগুলো বাতিল করা হয়নি। বরং বিশৃঙ্খলভাবে ভোট গণনা করে তাঁকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরাজিত দেখানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রার্থীরা সার্বিক ভোট কারচুপি ও অনিয়মের জন্য সহকারী নির্বাচন কমিশনার সুভাষ চন্দ্র রায়কে সরাসরি দায়ী করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর পঞ্চগড় সদর উপজেলা রাজমিস্ত্রি শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ১৪১১) ত্রিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা শহরের এভারেস্ট প্রি-ক্যাডেট স্কুল কেন্দ্রে সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোটগ্রহণ শেষে রাত আটটায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছিল। ঘোষিত ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ এনে ওই রাতেই প্রার্থীরা লিখিতভাবে পুনর্গণনার আনুষ্ঠানিক আবেদন জানান।
নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদ এবং সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র রায়, আব্দুল মজিদ ও নুরুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন।
সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ মজিদ সাংবাদিকদের জানান, প্রার্থীদের লিখিত পুনর্গণনার আবেদন পাওয়ার পর তিনি সহকারী নির্বাচন কমিশনার সুভাষ চন্দ্র রায়কে নির্বাচনী বিধি ও আইন অনুযায়ী ব্যালট পুনরায় গণনার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন