অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের কথা ভাবছে না তাঁর পরিবার। মামলা দায়ের করলে আদালতে দীর্ঘসূত্রতা ও বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ঝামেলায় জড়াতে হতে পারে বিবেচনা করে এমন অবস্থান নিয়েছেন তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম।
তবে কোনো আইনি পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে না নিলেও সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তকারী সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে সত্য উদঘাটন করবে বলে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনা করে মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা করার আবশ্যকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ কে এম এনায়েতুল করিম জানান, মামলার বিষয়ে তাঁরা এখনো কোনো প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেননি।
তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে পরিবারের ভেতরে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা শেষে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওপর আস্থা রেখে তিনি বলেন, মামলা করার কী প্রয়োজন হতে পারে, যেখানে সরকার অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে এবং তদন্তের বিষয়ে সংস্থাগুলো সক্রিয় রয়েছে।
মামলা এড়িয়ে চলার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাহসিফের বাবা স্পষ্ট করেন, দেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় আইনি মামলা মানেই নানামুখী ভোগান্তি ও টানাপোড়েন।
কোর্টে দৌড়াদৌড়ির এমন জটিল প্রক্রিয়ায় কেউ স্বেচ্ছায় জড়াতে চায় না বলেই তাঁরা মনে করছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, বর্তমান সরকারের একাধিক বিশেষায়িত ইউনিট ইতিমধ্যে অত্যন্ত সক্রিয় এবং দায়িত্বশীলভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্যে সুস্পষ্ট অসংগতি পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতের ঘটনাক্রম সম্পর্কে দীপ একের পর এক এলোমেলো ও পরস্পরবিরোধী তথ্য সরবরাহ করছেন। ফলে তাঁর দেওয়া সব বক্তব্যকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করছেন না তদন্তকারী কর্মকর্তারা। প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তাঁর প্রতিটি দাবি গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
শুক্রবার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, ছায়া তদন্তের একটি বিশেষ পর্যায়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সাউরি যেদিন রাতে নিখোঁজ হন, সেদিন তাঁর সঙ্গে দীপ নামের ওই বন্ধু উপস্থিত ছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দীপ বর্তমানে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের নজরদারিতে রয়েছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদে নানা তথ্য দিচ্ছেন। তবে তাঁর দেওয়া সব কথা বিশ্বাস না করে প্রতিটি তথ্যের সত্যতা প্রযুক্তিগত ও মাঠপর্যায়ে খতিয়ে দেখছে পিবিআই।
তাহসিফের সঙ্গে দীপের পূর্বপরিচয় ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিষয়ে তাঁর বাবা জানান, তাহসিফ মূল চাকরির পাশাপাশি একটি ছোট ব্যবসাও পরিচালনা করতেন।
পড়ালেখার পাশাপাশি দীপ মূলত তাহসিফের সেই ব্যবসায়িক কাজগুলো দেখাশোনা করতেন। বিভিন্ন বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রহরী সরবরাহ করার একটি যৌথ ব্যবসায়িক সংযোগ ছিল তাঁদের মধ্যে।
সেই সূত্রে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে দীপ প্রায়ই তাঁদের বাসায় যাওয়া-আসা করতেন এবং খাবার খেতেন। এমনকি দীপের মা-বাবা ও ছোট ভাইও একবার তাঁদের বাসায় আমন্ত্রিত হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে গেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন