শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ: হাসপাতাল ভাঙচুর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ: হাসপাতাল ভাঙচুর

ছবি :সংগ্রহীত

সিরাজগঞ্জ শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালিয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে শহরের মুজিব সড়কের পুরাতন কমিউনিটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

নবজাতকের জন্মের পরই নিভে গেল মায়ের প্রাণ। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নিহতের ভাই পান্না সেখ। স্বজন ও স্থানীয়দের বিবরণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের উত্তর সারটিয়া গ্রামের মাহিমের স্ত্রী শিউলী খাতুনকে (২০) প্রসববেদনা নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর চিকিৎসক সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর সাধারণ শয্যায় স্থানান্তর করা হলে শিউলী খাতুন বুকে তীব্র ব্যথার কথা জানান। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি হাসপাতালের পরিচালক কামাল তালুকদার এবং উপস্থিত চিকিৎসকদের জানানো হলেও রোগীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি দেখে ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁকে পুনরায় অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।

অপারেশন থিয়েটারে দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও কোনো ইতিবাচক খবর মেলেনি। স্বজনদের দাবি, প্রায় আট ঘণ্টা ভেতরে রাখার পর রাত ২টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাঁকে ওটি থেকে বের করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। তবে সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিউলী খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর খবর সিরাজগঞ্জে ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার দুপুরে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী পুরাতন কমিউনিটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সে জড়ো হয়ে ভাঙচুর চালান। নিহত শিউলীর ভাই পান্না সেখ অভিযোগ করে বলেন, ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁর বোনের অকাল মৃত্যু হয়েছে এবং অস্ত্রোপচারের পরপরই রোগীর বুকে অসহ্য যন্ত্রণা দেখা দেয়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই বেসরকারি হাসপাতালের অনুমোদন বাতিলের পাশাপাশি দায়ী দুই চিকিৎসক ও পরিচালককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের অভিযুক্ত চিকিৎসক কিংবা পরিচালনা কর্তৃপক্ষের কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান, প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।