সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম
দৈনন্দিন জীবনে জীবিকা বা রিজিক বৃদ্ধির জন্য পবিত্র কোরআন ও হাদিসে সুনির্দিষ্ট কিছু দোয়া এবং আমলের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহতায়ালার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রেখে নির্দিষ্ট কিছু আয়াত পাঠ এবং নিয়মিত তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে বান্দার জীবনে বরকত ও সচ্ছলতা ফিরে আসে।
আল্লাহতায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান। পবিত্র কোরআনের সুরা শুরার ১৯ নম্বর আয়াতে রিজিক দানকারী হিসেবে আল্লাহর মহিমা তুলে ধরা হয়েছে। এই আয়াতের বাংলা উচ্চারণ হলো, ‘আল্লাহু লাতীফুম্ বি-ইবাদিহি ইয়ারজুকু মাইয়্যাশায়ু, ওয়া হুয়াল কাভিয়্যুল আজিজ।’ এর অর্থ হলো, আল্লাহতায়ালা নিজের বান্দাদের প্রতি অতিশয় মেহেরবান। তিনি যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিজিক দান করেন। তিনি চির প্রবল ও পরাক্রমশালী। ইসলামী স্কলারদের বর্ণনামতে, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে একনিষ্ঠতার সঙ্গে নিয়ম করে ৭০ বার এই আয়াত পাঠ করবে, সে সর্বদা রিজিকের যাবতীয় সংকট থেকে নিরাপদে থাকবে।
এর পাশাপাশি নিয়মিত তওবা ও ইস্তিগফার পাঠের মাধ্যমেও বান্দার জীবিকায় প্রাচুর্য তৈরি হয়। সুরা নুহের ১০ থেকে ১২ নম্বর আয়াতে এবং সুরা ওয়াকিয়ার ৮২ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘আমি তাদের বলেছি, নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে উন্নতি দান করবেন এবং তোমাদের বাগবাগিচা এবং নদীনালা দান করবেন।’
হাদিস শরিফেও সার্বক্ষণিক ক্ষমা প্রার্থনার অসাধারণ গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত একটি হাদিসে শেষ নবী রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি অবিরাম তওবা-ইস্তিগফার জারি রাখবে, মহান আল্লাহ তাকে যেকোনো কঠিন সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুলে দেবেন, তার সব দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং এমন এক অকল্পনীয় উৎস থেকে তাকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন যা সে কখনো ভাবতেই পারেনি। আবু দাউদ শরিফের এক হাজার ৫১৮ নম্বর হাদিস, ইবনে মাজাহর তিন হাজার ৮১৯ নম্বর হাদিস এবং মুস্তাদরাকে হাকেমের চতুর্থ খণ্ডের ২৯১ পৃষ্ঠায় সাত হাজার ৬৭৭ নম্বর হাদিসে এই নির্দেশনাটি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন