শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
পাহাড়ের হাতছানি

থানচি ভ্রমণ গাইড: সাঙ্গু নদী ও ডিম পাহাড়ের খরচ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

থানচি ভ্রমণ গাইড: সাঙ্গু নদী ও ডিম পাহাড়ের খরচ

বান্দরবান জেলার সর্ববৃহৎ ও নিসর্গশোভিত উপজেলা থানচি দেশের অন্যতম প্রধান রোমাঞ্চকর ভ্রমণ গন্তব্য। পাহাড়ি অরণ্যের বুক চিরে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা সাঙ্গু নদী, মেঘে ঢাকা ডিম পাহাড় আর বিশালাকার পাথরের সমাহার এই অঞ্চলকে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক অনন্য রূপ দিয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নদী ও পাহাড় ট্রেকিংয়ের চ্যালেঞ্জ নিতে অনেকেই নিয়মিত ছুটে যাচ্ছেন এই দুর্গম জনপদে।

সাঙ্গুর নীল জল আর মেঘে ঢাকা পাহাড়ের মেলবন্ধনই থানচির আসল প্রাণ। ঢাকা থেকে থানচি যেতে হলে প্রথমে বান্দরবান জেলা সদরে পৌঁছাতে হয়। রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে বান্দরবানের দূরত্ব প্রায় ৩৬২ কিলোমিটার। এই পথে নন-এসি বাসে জনপ্রতি ভাড়া ৯০০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া দুই হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত আট থেকে দশ ঘণ্টা সময় লাগায় রাতের বাসে রওনা হয়ে ভোরেই পৌঁছে যাওয়া যায়। সদরের ধনুশ চত্বর এলাকায় রাত্রিযাপনের জন্য সাশ্রয়ী আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে হিলবার্ড হোটেলের মতো জায়গায় প্রতি রাতে মাত্র ৪০০ টাকায় দুজনের একটি কক্ষ পাওয়া যায়।

পাহাড়ের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান এক দিনে ঘুরে দেখতে ধনুশ চত্বরের যাত্রী সেবা কেন্দ্র থেকে চাঁদের গাড়ি ভাড়া করা সবচেয়ে সুবিধাজনক। নীলগিরি, থানচি, ডিম পাহাড়, তাজিংডং এবং তমাতুঙ্গি ঘিরে পুরো এক দিনের সার্কেল সফরের জন্য একটি চাঁদের গাড়ি ভাড়া বাবদ খরচ হয় ১০ হাজার ৫০০ টাকা। এ ধরনের গাড়িতে সাধারণত ১১ থেকে ১২ জন পর্যটক একসঙ্গে ভ্রমণ করতে পারেন। চিম্বুক পাহাড়ের সেনা ক্যাম্পের সংলগ্ন রেস্তোরাঁয় ডিম ও মাংসের সমন্বয়ে ৯০ টাকায় সকালের খিচুড়ি নাস্তা সেরে নেওয়া যায়। পথিমধ্যে মেঘের চাদরে ঘেরা টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট এবং ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্ট পর্যটকদের নজর কাড়ে। তবে সীমান্তবর্তী ও পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় পথে থাকা সেনা চেকপোস্টে নিরাপত্তা তল্লাশি বাধ্যতামূলক। সেখানে জনপ্রতি জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ টাকা দিয়ে নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করতে হয়। ফরমে যাত্রীদের নাম, মোবাইল নম্বর, ভ্রমণের রুট ও ফেরার সময় লিপিবদ্ধ করে জমা দিয়ে সেই ফরমের একটি ছবি মুঠোফোনে তুলে রাখতে হয়, যা ফেরার পথে ক্যাম্পে প্রদর্শন করা আবশ্যক।

আলী কদম সড়কের সংযোগস্থলে দুই হাজার ফুটের বেশি উঁচুতে অবস্থিত ডিম পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি অন্যরকম এক আবহ তৈরি করে। সেখানে স্থানীয় পাহাড়ি শিশুদের কাছ থেকে তরমুজের মতো দেখতে মিষ্টি ফল দশ থেকে ২০ টাকায় কিনে খাওয়া যায়। থানচি বাজারে পৌঁছে দুপুরের খাবারের জন্য স্থানীয় রেস্তোরাঁয় প্যাকেজ ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে মুরগি-ভাত ৩০০ টাকা এবং গরুর মাংস দিয়ে ভাত ২৮০ টাকায় পাওয়া যায়। সাঙ্গু নদীর রূপ দেখতে থানচির বিজিবি নিয়ন্ত্রিত ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিতে হয়। নদীপথে তিন্দু পাড়া হয়ে রাজা পাথর ও রানী পাথর ঘুরে আসার জন্য দুটি নৌকার সরকারি প্যাকেজ ভাড়া পড়ে সাত হাজার ৫০০ টাকা। এর মধ্যে নৌকা প্রতি তিন হাজার টাকা হিসেবে দুই নৌকায় ছয় হাজার টাকা, নির্ধারিত ভ্রমণ গাইড ফি এক হাজার টাকা এবং লাইফ জ্যাকেটের ভাড়া ৫০০ টাকা অন্তর্ভুক্ত। বিশাল গ্রানাইট পাথরের খাঁজে বয়ে চলা নদীর এই অংশ পেরিয়ে নাফাখুমের পথ এগিয়ে গেছে। ফেরার পথে নদীর তীরবর্তী কুমারী ঝরনা ও স্থানীয় পাহাড়ি ঝরনার স্বচ্ছ ঠান্ডা পানিতে শরীর জুড়িয়ে নেওয়া যায়। বিকেলে চারপাশের পাহাড়ের চূড়া ও দূরবর্তী উপত্যকা দেখতে তমাতুঙ্গি ভিউ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্তের অসাধারণ দৃশ্য উপভোগ করে সন্ধ্যার আগেই জেলা সদরে ফিরতে হয়।