সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে নির্বাচনি মাঠে মির্জা পরিবারের প্রতিনিধিত্বের হাল ধরেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন। অপরদিকে আসনটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনায় থাকা রাষ্ট্রপতির জ্যেষ্ঠ কন্যা ড. শামারু মির্জা দলীয় মনোনয়নপত্র কেনেননি। মূলত পারিবারিক সমঝোতার ভিত্তিতেই তিনি উপনির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানা গেছে।
মনোনয়নপত্র গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফয়সাল আমিন জানান, তিনি দলীয় মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন এবং ভোটের মাঠে ভোটার ও সাধারণ মানুষ তাকে সর্বাত্মকভাবে পাশে পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সাংবিধানিক নিয়মে এই সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র কৌতুহল ছিল।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবার পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়ে শামারু মির্জা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন। ফলে সাধারণ ভোটারদের অনেকেই ধারণা করেছিলেন তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে অবদান রাখবেন, তবে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার অনুসারীদের একাংশের মাঝে কিছুটা হতাশা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বিশিষ্টজনদের মতে, চলমান বাস্তবতায় এই আসনে মির্জা ফয়সাল আমিনের বিকল্প নেই।
রাষ্ট্রপতির দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সুজন জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল লতিফ উল্লেখ করেন, সার্বিক রাজনৈতিক সমীকরণে মির্জা ফয়সাল আমিনের বিকল্প নেই। রাষ্ট্রপতির দেওয়া উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তাকেই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এছাড়া শামারু মির্জা সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত না থাকায় তাকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। একই প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ডা. খাইরুল কবির বলেন, নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির ঘোষিত উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতা কার্যকর রাখতে হলে এই উপনির্বাচনে মির্জা ফয়সাল আমিনই সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফয়সাল আমিনের পক্ষে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর পাশাপাশি জেলা বিএনপির দুই সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ এবং সুলতান ফেরদৌস নম্র চৌধুরীও দলীয় মনোনয়নপত্র তুলেছেন। যোগাযোগের পর তারা দুজনই দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল মোতাবেক আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পূর্বঘোষিত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দেলোয়ার হোসেন। আসনটি শূন্য হওয়ার পর থেকেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা এলাকায় শক্ত সাংগঠনিক অবস্থান গড়তে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক ঐতিহ্য রক্ষা ও বিরোধী তৎপরতা মিলিয়ে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমগ্র জেলায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন