তানভীর হাসান তানু
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
ছবি: দিনাজপুর টিভি
ঠাকুরগাঁওয়ে সুখ, শান্তি ও পারিবারিক সমৃদ্ধি কামনায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ওরাঁও সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব `কারাম পূজা` উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের পাঁচপীরডাঙ্গা গ্রামে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ জেলা শাখার উদ্যোগে এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন করা হয়। নাচ-গান, মাদল ও ঢাক-ঢোলের বাদ্যে পুরো এলাকা উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রকৃতি বন্দনা ও ফসল রক্ষার বিশ্বাসেই এই আচারের মূল ভিত্তি।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস, ভাদ্র মাসের শেষ দিন ও আশ্বিনের শুরুতে এই পূজা উদযাপন করলে সমস্ত বিপদ-আপদ দূর হয় এবং কৃষিজমিতে ভালো ফলন নিশ্চিত হয়। রীতির অংশ হিসেবে প্রথম দিন ওরাঁও নারী ও পুরুষেরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস পালন করেন। মূলত উপবাসের মধ্য দিয়েই নারী সদস্যরা পূজার প্রাথমিক পর্ব শুরু করেন।
পরদিন সন্ধ্যায় মাদল, ঢোল, করতাল ও ঝুমকির বাজনার তালে তালে নেচে-গেয়ে এলাকা থেকে কারাম অর্থাৎ খিল কদম গাছের ডাল সংগ্রহ করা হয়। পরে পূজার বেদি তৈরি করে সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার পর সেই ডালটি বেদিতে রোপণ করেন তারা। এরপর নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোররা হাত ধরে ঐতিহ্যবাহী নৃত্যে অংশ নেন। রঙিন পোশাকে সজ্জিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনও সম্প্রীতির এই উৎসবে সমবেত হন।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশুরাম মুর্মু জানান, বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা, ভালো ফসল উৎপাদন এবং সংসারে সুখ-শান্তি বজায় রাখার প্রত্যাশায় তারা আদিকাল থেকে বংশপরম্পরায় এই উৎসব পালন করে আসছেন। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন চৌধুরী বলেন, কারাম উৎসব বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের অন্যতম অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা পেলে এই লোকায়ত ঐতিহ্যকে আরও বৃহত্তর পরিসরে উদযাপন করা সম্ভব।
অন্যান্য জেলা থেকেও বহু দর্শনার্থী এই বর্ণিল আয়োজন উপভোগ করতে পাঁচপীরডাঙ্গা গ্রামে উপস্থিত হন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবের সূচনা হয়েছিল। আচার-অনুষ্ঠান শেষে ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে কারাম গাছের ডাল স্থানীয় নদীতে বিসর্জনের মাধ্যমে এবারের আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত হবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, ওরাঁও জনগোষ্ঠীর এই নিজস্ব সংস্কৃতি যেন যুগে যুগে টিকে থাকে, সেজন্য রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকা জরুরি। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ এবং ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু। এছাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম মাওলা চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।