শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন মাইলফলক

ইমোশনাল ডোনারে কিডনি প্রতিস্থাপন‍‍` বিএমইউর বড় মাইলফলক

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

ইমোশনাল ডোনারে কিডনি প্রতিস্থাপন‍‍` বিএমইউর বড় মাইলফলক

দেশে প্রথমবারের মতো আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতা বা ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। এই যুগান্তকারী সফলতার মধ্য দিয়ে দেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে অঙ্গদানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। একই দিনে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীকে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় হাসপাতাল থেকে আনন্দ ও আবেগঘন পরিবেশে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

আইনগত প্রক্রিয়া ও কঠোর শর্ত নিশ্চিত করেই এই প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, নিকট আত্মীয়ের গণ্ডি পেরিয়ে আইনগত শর্ত ও নির্ধারিত নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সাপেক্ষে আবেগগতভাবে যুক্ত যেকোনো ব্যক্তিও এখন স্বেচ্ছায় অঙ্গ দান করতে পারবেন। সম্ভাব্য দাতার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এই ব্যবস্থা শতভাগ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। ডোনারের আইনি বৈধতা, রোগীর সাথে সম্পর্কের সত্যতা ও শারীরিক সক্ষমতা মূল্যায়নে একাধিক বিশেষজ্ঞ কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। বিএমইউতে লিভার প্রতিস্থাপন কার্যক্রমের পর কিডনি সংযোগের এই অগ্রগতি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাচ্ছে।

ট্রান্সপ্ল্যান্ট টিমের অন্যতম সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম জানান, এই সাফল্য বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের এক অনন্য মাইলফলক। দেশেই জটিল এই চিকিৎসা বাস্তবায়িত হওয়ায় রোগীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা ও বিপুল আর্থিক অপচয় অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এটি কেবল একক রোগীর সুস্থতা নয়, বরং সামগ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার স্বনির্ভরতার প্রমাণ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে বাগেরহাট থেকে আসা এক রোগী গত ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আইনি অনুমোদন শেষে ৩১ আগস্ট গাইবান্ধা থেকে আসা একজন আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতার কিডনি তার শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়। ছাড়পত্র প্রদান অনুষ্ঠানে রোগী ও তার স্বজনরা অশ্রুসিক্ত নয়নে সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া জানান এবং চিকিৎসকদের আন্তরিক ধন্যবাদ দেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (গবেষণা) অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম এবং নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ এইচ হামিদ আহমেদ। অস্ত্রোপচারে নেতৃত্বদানকারী গ্রহীতা টিমের সার্জন অধ্যাপক ডা. এ কে এম খুরশিদুল আলম ও দাতা টিমের সার্জন অধ্যাপক ডা. শফিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইউনিটের চিকিৎসক ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন। নিরাপদ ও মানবিক কাঠামোর অধীনে অঙ্গদানের সুযোগ সম্প্রসারণে এই উদ্যোগ দেশের চিকিৎসা ইতিহাসে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।