শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত

ইমোশনাল ডোনারের কিডনি প্রতিস্থাপন সফল বিএমইউতে

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০২:৫১ পিএম

ইমোশনাল ডোনারের কিডনি প্রতিস্থাপন সফল বিএমইউতে

দেশে প্রথমবারের মতো আবেগগতভাবে সম্পৃক্ত স্বেচ্ছাদাতা বা ইমোশনাল ডোনারের মাধ্যমে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। একই দিন সফল অস্ত্রোপচার শেষে সুস্থ হওয়া রোগীকে হাসপাতাল থেকে আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের এই সাফল্য দেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিল। উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী জানান, নিকট আত্মীয়ের বাইরেও আইনি প্রক্রিয়া ও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে আবেগগত সম্পর্কের ভিত্তিতে যে কেউ এখন স্বেচ্ছায় কিডনি দান করতে পারবেন। তবে এতে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই এবং পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক হতে হবে। তিনি বলেন, ডোনারের আইনি বৈধতা, পারিবারিক ও মানসিক সম্পর্কের সত্যতা, স্বেচ্ছাসম্মতি এবং শারীরিক সুস্থতা যাচাইয়ে হাসপাতালের একটি বিশেষজ্ঞ দল কঠোর মূল্যায়ন করেছে। বিএমইউতে বর্তমানে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টসহ সার্বিক অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা ক্রমাগত বাড়ছে। ট্রান্সপ্ল্যান্ট টিমের সদস্য ও ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম এ ঘটনাকে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, জটিল এই আধুনিক চিকিৎসা দেশেই সম্ভব হওয়ায় ভবিষ্যতে রোগীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা, দীর্ঘ ভোগান্তি ও বিপুল আর্থিক অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট থেকে আসা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি জটিলতায় ভোগা এক রোগী গত ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিএমইউতে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৩১ আগস্ট তার শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। গাইবান্ধা থেকে আসা এক আবেগগত স্বেচ্ছাদাতা এই রোগীকে নিজের কিডনি দান করেন। ছাড়পত্র প্রদান অনুষ্ঠানে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসক দলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা পেরিয়ে নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে রোগী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, যা উপস্থিত সবাইকে স্পর্শ করে।

অনুষ্ঠানে বিএমইউর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম, নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ এইচ হামিদ আহমেদ, গ্রহীতা টিমের প্রধান সার্জন অধ্যাপক ডা. এ কে এম খুরশিদুল আলম এবং ডোনার টিমের প্রধান সার্জন অধ্যাপক ডা. শফিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।