সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্রমাগত বাড়াতে সারা দেশে সমন্বিতভাবে পোনামাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে সরকার। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা লেকে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণ পর্ব শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই তথ্য জানান। মাছের প্রজনন রক্ষা ও প্রান্তিক খামারিদের প্রণোদনা দেওয়াই মূল লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দেশব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই সূচনার ধারাবাহিকতায় এখন দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় উন্মুক্ত জলাশয়ে নিয়মিত পোনামাছ অবমুক্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তদারকিতে এই কাজ চলছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি সত্ত্বেও বর্তমানে দেশে মাছের কোনো ঘাটতি নেই এবং মিঠাপানির মাছের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্যচাষিদের পৃষ্ঠপোষকতা দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা করেন, সাধারণ চাষিদের মতো মৎস্য খামারিদেরও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা হবে। সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক ঋণ ও প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে। নিরাপদ মাছ উৎপাদনের স্বার্থে খামারে ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ বন্ধে খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নিম্নমানের মাছের খাবার বা ফিড প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করেছে মন্ত্রণালয়।
জাতীয় চিড়িয়াখানা লেকে এদিন মোট ২৫০ কেজি অর্থাৎ প্রায় দুই হাজার ৫৭৫টি সুস্থ পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১০০ কেজি বা এক হাজার ১০০টি রুই, ৭৫ কেজি বা ৬০০টি কাতলা এবং ৭৫ কেজি বা ৮৭৫টি কালিবাউস, যেগুলোর দৈর্ঘ্য ছিল ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার।
ঢাকা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহিনুর আলম, মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাসিব খান, কেন্দ্রীয় মুরগি খামারের পরিচালক জিনাত সুলতানা, চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. হাবিবুর রহমান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন