সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে সরকারের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মাথা গরম না করে জনগণের আট দফা দাবি মেনে নিন। অন্যথায় এই দাবি এক দফায় রূপ নিলে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় লংমার্চে অংশ নেওয়া ১১ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা সরকার যেভাবে আইন তৈরি করে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরেছিল, বর্তমান সরকারও একই পথ অনুসরণ করছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে লংমার্চের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটলেও এই জোয়ার থামানো যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, ক্ষমতা দখলের জন্য নয়, বরং দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য একটি দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করছে এবং হরতাল-অবরোধের বাইরে শান্তিপূর্ণ রাজনীতির এক নতুন ধারা তৈরি করছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, লংমার্চ ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া ও গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যর্থতার কারণেই এই লংমার্চের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্বাগত বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন নেজামে ইসলাম পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোভানি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় পার্টির (পার্থ) মহাসচিব রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক চাঁন, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদদীন পাটোয়ারী এবং খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম।
এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদের ভিপি সাদিক কায়েমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে সকাল আটটায় রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চের গাড়িবহর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, এই যাত্রায় এক হাজারের বেশি গাড়ি অংশ নিচ্ছে।
পথিমধ্যে রংপুরের সমাপনী সমাবেশের আগে মোট পাঁচটি নির্ধারিত স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম পথসভা নির্ধারিত হয়েছে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে। এরপর পর্যায়ক্রমে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস রোড, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালির বিমান মোড় এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা সম্পন্ন হবে। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যার দিকে রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চের কর্মসূচি শেষ হবে। এছাড়া পথিমধ্যে লংমার্চকে স্বাগত জানাতে জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখতে পারেন শীর্ষ নেতারা। জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন