শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সাহস থাকলে ২০০১-০৬ সালের দুর্নীতির তদন্ত করুন‍‍`: নাহিদ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

সাহস থাকলে ২০০১-০৬ সালের দুর্নীতির তদন্ত করুন‍‍`: নাহিদ

দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, সাহস থাকলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতি ও যাবতীয় অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দেখানো হোক। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

বিএনপি সরকার কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক বিভিন্ন আইন পাস, বিরোধী মত দমন এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টি এই কর্মসূচির আয়োজন করে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সফরের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন, কেবল বিএনপির নয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারপ্রধান জাতীয় ঐক্যের একটি দৃশ্যমান বার্তা দিতে পারলে তা জাতির জন্য ইতিবাচক হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিগত ১৬ বছর ধরে বিএনপির শীর্ষ নেতারা নিজেরা জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। এখন দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বমঞ্চে সরকারের প্রতিনিধিরা কী ধরনের জবাব দেবেন তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি জানান। দেশে নাগরিক অধিকার এখনো সুরক্ষিত নয় দাবি করে তিনি বলেন, মানবাধিকার রক্ষার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতাসীন হওয়া সরকার এমন কিছু আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলছে যা কার্যত মৌলিক অধিকার খর্ব করার পথ উন্মুক্ত করছে। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লড়াই সংগঠিত হয়েছিল, তা আজও পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জিত হয়নি।

গত পাঁচ মাস ধরে নিখোঁজ থাকা মিরাজ শেখের প্রসঙ্গ সামনে এনে তিনি জোর গলায় জানতে চান যে মিরাজ শেখের কোনো সন্ধান কেন পাওয়া যাচ্ছে না। সাত মাসে একটিও গুমের ঘটনা ঘটেনি বলে সরকারের মন্ত্রীদের করা দাবির তীব্র সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি আজ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। নিখোঁজের পর ভুক্তভোগীর পরিবার সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি এবং পরবর্তীতে সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার ক্ষেত্রেও কোস্টগার্ডের নাম উল্লেখ করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল।

এনসিপির সাবেক নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়েরের নিন্দা জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি ব্যাখ্যা করেন, তানভীর সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে একটি ভুল করেছিলেন এবং দল হিসেবে এনসিপি তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু কোনো সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও কেবল মন্তব্যের কারণে একজন রাজনীতিকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

একইভাবে গাজীপুরের সিফাত নামের এক তরুণের বিরুদ্ধে একই কঠোর আইনে মামলা দেওয়ার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গচিত্র তৈরি বা সমালোচনামূলক মন্তব্য করা কখনোই সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞায় পড়তে পারে না। হবিগঞ্জে দলীয় কর্মী আলিফের ওপর হামলা চালিয়ে একটি চোখ কেড়ে নেওয়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি দাবি করেন যে মাঠপর্যায়ে বিরোধী মতপ্রকাশের কণ্ঠরোধ শুরু হয়ে গেছে।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি যুক্তি দেন, একটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ অন্য একটি বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে তদন্ত করা হলে তা কখনো ফলপ্রসূ হবে না। উপরন্তু অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলে উল্টো অভিযোগকারীকে শাস্তির মুখোমুখি করার বিধান রাখায় সাধারণ মানুষ অভিযোগ দায়ের করার সাহস হারিয়ে ফেলবে।

বিএনপির শীর্ষ নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ইলিয়াস আলীসহ অতীতে দলটির অসংখ্য নেতাকর্মী গুমের শিকার হওয়ার স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলে থাকার সময় দলটি এসব ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেছিল। অথচ ক্ষমতায় আসার পর তারা জাতীয় পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তেও অনীহা দেখাচ্ছে। প্রয়োজনীয় পুলিশ সংস্কার কমিশন বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিয়ে পুরো পুলিশ বাহিনীকে বিরোধী রাজনৈতিক দল দমনের হাতিয়ার হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং একই সাথে নির্বাচন কমিশনকেও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিদ্যমান জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, এই সরকার সাধারণ মানুষকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল, গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সুশাসনের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং গণভোটের ঐতিহাসিক গণরায় বাস্তবায়নের কোনো সদিচ্ছা সরকারের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।