সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
দিনাজপুরে পেঁপে চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন স্থানীয় কৃষক রুবেল। গত আট বছর ধরে গবেষণাধর্মী প্রচেষ্টার মাধ্যমে শাহী পেঁপের উন্নত জাত তৈরি করেছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর বাগানের একটি পেঁপে গাছ থেকেই বছরে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হচ্ছে।
কৃষি থেকে ভালো আয়ের স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা জাতের পেঁপে নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন রুবেল। শুরুর দিকে বিভিন্ন জাতের চারা লাগিয়ে নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়েন তিনি। অনেক গাছ রোগাক্রান্ত হতো, ফলনও আশানুরূপ হতো না। আট বছর আগে বাগানের একটি ব্যতিক্রমী সুস্থ গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে নতুনভাবে চারা উৎপাদন শুরু করেন তিনি।
ধারাবাহিক বাছাইয়ের মাধ্যমে জাতটির আধুনিকায়ন ঘটে। প্রথম দিকে পেঁপে গাছ অনেক বড় হতো এবং ফলের আকার ও রঙে নানা তারতম্য থাকত। পরবর্তীতে রুবেল পর্যায়ক্রমে ছোট আকৃতির গাছ, আকর্ষণীয় রঙ এবং মিষ্টি স্বাদের বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করে ধারাবাহিক পরাগায়ন শুরু করেন। পুরুষ ও স্ত্রী ফুলের নিয়ন্ত্রিত পরাগায়নের মাধ্যমে তিনি এই জাতের আধুনিক রূপ দেন। তাঁর বাগানের গাছগুলোতে চারা রোপণের প্রায় নব্বই দিনের মধ্যে ফলন আসা শুরু হয়। একটি গাছ থেকে টানা কয়েক বছর নিয়মিত ফল পাওয়া যায় এবং সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে একেকটি গাছ সাত বছর পর্যন্ত ফল দিতে সক্ষম।
গাছগুলোতে প্রায় সারা বছরই ধারাবাহিকভাবে ফুল ও ফল আসতে থাকে। একেকটি পেঁপের ওজন চার থেকে ছয় কেজি পর্যন্ত হয় এবং সর্বোচ্চ পরিচর্যায় এর ওজন বারো কেজি পর্যন্ত রেকর্ড করা গেছে। গড়ে একটি গাছ থেকে বছরে প্রায় পাঁচ মণ পেঁপে পাওয়া যায়। বাজারে প্রতি মণ পেঁপে আটশত টাকা দরে বিক্রি হলেও একটি গাছ থেকেই চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা ঘরে তোলা সম্ভব। চাষাবাদের ক্ষেত্রে জমিতে সাথী ফসল হিসেবেও পেঁপেকে কাজে লাগাচ্ছেন রুবেল। আলু তোলার পর একই জমিতে তিনি পেঁপের চারা রোপণ করেন এবং পরবর্তীতে পেঁপে বাগানের ভেতর বারোমাসি সজিনা চাষ শুরু করেছেন। বর্তমানে তাঁর বাগানে প্রায় দেড়শতটি সজিনা গাছ রয়েছে। পেঁপে থেকে নিয়মিত পরিবারের খরচ নির্বাহ হয় এবং সজিনা থেকে বাড়তি মুনাফা নিশ্চিত হচ্ছে।
এক বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করতে প্রায় চারশত চারা প্রয়োজন হয়। ভালো ফলন ও বীজের সঠিক গঠনের জন্য প্রতি বিঘায় অন্তত দশ থেকে পনেরোটি পুরুষ গাছ রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পুরো বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানির কারণে গাছের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। তাই সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর মাসে চারা রোপণ করলে শীতের শুরুতে গাছ পরিপুষ্ট হয় এবং গ্রীষ্মকালে নিচের দিক থেকেই প্রচুর ফলন ধরতে শুরু করে।
পেঁপে চাষে নতুনদের জন্য কিছু সতর্কবার্তা রয়েছে।
জমিতে যাতে কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে সেদিকে কঠোর নজর দিতে হবে। পানি জমলে গাছ দ্রুত মারা যেতে পারে। রাসায়নিক সারের যথেচ্ছ ব্যবহারের পরিবর্তে জৈব সার বেশি প্রয়োগ করা জরুরি। বিশেষ করে জমিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ব্যবহার করলে পোকার আক্রমণ বেড়ে যায় এবং জিংক ও বোরনের ঘাটতি থাকলে ফল বিকৃত হয়ে পড়ে।
কৃষকদের সচেতনতার সঙ্গে সঠিক জাত নির্বাচন ও আগাম বা কৌশলগত বাজারে সরবরাহের পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষক রুবেল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন