আগস্ট ১, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বরিশালের বাবুগঞ্জে পেঁপে চাষ ও চারা উৎপাদন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আবু বকর সিদ্দিকী সুমন। অভাবের সঙ্গে লড়াই করে জীবন শুরু করা এই তরুণ এখন সফল এক কৃষি উদ্যোক্তা। কেবল নিজে স্বাবলম্বী হওয়াই নয়, তাঁর হাত ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারো তরুণ ও বেকার মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।তার হাত ধরে ইতিমধ্যে দুই হাজারের বেশি তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছেন।
অভাবের তাড়নায় নবম শ্রেণিতে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে রেলওয়েতে চাকরি নেন বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বায়লাখালী গ্রামের এই তরুণ। পরবর্তী সময়ে লেবানন ও ঢাকার ফকিরাপুলে রংমিস্ত্রি থেকে শুরু করে দিনমজুরের মতো কঠিন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন তিনি। ২০২১ সালে বাবুগঞ্জের তৎকালীন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে মাছ চাষের পাশাপাশি পেঁপে চাষ শুরু করেন। মৎস্য অধিদপ্তর থেকে সামান্য আর্থিক সহায়তা নিয়ে গাজীপুর থেকে উন্নত বীজ সংগ্রহ করে নিজের পতিত জমিতে আধুনিক বাগান গড়ে তোলেন তিনি।
বর্তমানে প্রায় দেড় একর জমি ও তিনটি মাছের ঘেরের পাড়ে তাঁর বাগানে সাড়ে বারোশ পেঁপে গাছ রয়েছে। শাহী, কাশ্মীরি ও টপ লেডি জাতের এসব গাছে প্রচুর ফলন আসছে এবং ফলের আকারও বেশ বড়। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে তিনি কাঁচা ও পাকা পেঁপে এবং চারা বিক্রি করে কোটি টাকার বেশি অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছেন। শুধু গত মৌসুমে ১৫ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রির পর চলতি মৌসুমে আরও বেশি বিক্রির আশা করছেন এই উদ্যোক্তা।
পেঁপের পাশাপাশি মাছের ঘেরের পাড়ে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ করে অতিরিক্ত আয় করছেন তিনি। চারা উৎপাদনেও তাঁর সাফল্য বেশ লক্ষণীয়, যেখানে চলতি বছরেই লাখ লাখ চারা বিক্রি হয়েছে। আগামীতে দেশজুড়ে কুড়ি লাখ চারা সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আধুনিক পলি হাউজ নির্মাণ করেছেন তিনি। নিজের সাফল্যের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তরুণ ও বেকারদের বিনা মূল্যে পেঁপে চাষের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন সুমন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন