সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১০:০২ পিএম
সন্তানকে বিষমুক্ত ও পুষ্টিকর ফলমূল খাওয়ানোর তাগিদ থেকে বাড়ির ছাদে ফল ও সবজির বাগান গড়ে তুলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ফরিদপুর শহরের গৃহিণী আয়েশা আশরাফী। ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্বামীর বাড়ি ফরিদপুরে থিতু হওয়া এই নারী নিজের চব্বিশ শত বর্গফুটের ছাদকে পরিণত করেছেন এক টুকরো সবুজ উদ্যানে। বর্তমানে তাঁর ছাদবাগানে ফল ও সবজির ফলন দেখে উৎসাহিত হয়ে শহরের বহু বাসিন্দা ছাদকৃষিতে ঝুঁকছেন।
মা হওয়ার পর থেকেই মূলত বিষমুক্ত খাবারের ভাবনা আয়েশাকে ছাদবাগানে উদ্বুদ্ধ করে। শুরুর দিকে পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর শখ থেকে ছোট পরিসরে আবাদ শুরু করলেও ধীরে ধীরে তা পূর্ণাঙ্গ খামারের রূপ পায়। বর্তমানে তাঁর ছাদজুড়ে ড্রামে ও টবে শোভা পাচ্ছে শতাধিক প্রজাতির দেশি ও বিদেশি ফলমূলের গাছ।
এই বাগানে রয়েছে আনার, ডালিম, জাম্বুরা ও ড্রাগন ফল। মিশরীয় ডুমুর বা তিন ফল, সফেদা, পেয়ারা, কমলা, মাল্টা, মিষ্টি তেঁতুল, জলপাই ও বারোমাসি আমড়াসহ নানা ফলের সমাহার রয়েছে সেখানে। ফলের পাশাপাশি নিয়মিত উৎপাদিত হচ্ছে বেগুন, টমেটো ও কাঁচামরিচের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় শাকসবজি। ছাদের উৎপাদিত ফলের গুণগত মান বাজারের রাসায়নিকযুক্ত ফলের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। আয়েশা আশরাফী জানান, বাজারের ড্রাগন ফল সাধারণত ব্যবসায়িক স্বার্থে অপরিপক্ব অবস্থায় গাছ থেকে তোলা হয়, ফলে সেগুলোর আসল স্বাদ ও মিষ্টতা পাওয়া যায় না। অন্যদিকে ছাদবাগানের ড্রাগন ডালে পুরোপুরি পাকার পর সংগ্রহ করা হয় বলে এর আকার ও মিষ্টি স্বাদে স্পষ্ট পার্থক্য থাকে। বিষমুক্ত উপায়ে জৈব পদ্ধতিতে ফলানো এসব ফল ও সবজি পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত অংশ বাইরেও বিক্রি করা হচ্ছে।
আয়েশার এমন উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আগ্রহী ব্যক্তিরা তাঁর বাসায় আসছেন। দর্শনার্থীদের অনেকেই তাঁর কাছ থেকে চারা রোপণ ও মাটি প্রস্তুতির কারিগরি পরামর্শ নিয়ে নিজেদের বাড়ির ছাদে বাগান তৈরিতে নামছেন। স্থানীয়ভাবে এই ছাদকৃষি এখন একটি নীরব সবুজ বিপ্লবে রূপ নিয়েছে, যেখানে সাধারণ বাসাবাড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ছাদেও ফল ও ফুলের বাগান সম্প্রসারিত হচ্ছে।
স্থানীয় নার্সারি মালিকরা জানান, একটি ছাদে যদি বিশ থেকে ত্রিশটি ড্রামে ফল ও সবজির গাছ লাগানো যায়, তবে সেই পরিবারের জন্য বাজার থেকে কৃত্রিম উপায়ে পাকানো ফল বা বিষাক্ত রাসায়নিকযুক্ত সবজি কেনার প্রয়োজন পড়ে না। বিশেষ করে মরিচ, লেবু ও সিজনাল সবজি সহজেই ছাদ থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব। উদ্যোক্তারা মনে করেন, খালি পড়ে থাকা প্রতিটি কংক্রিটের ছাদকে পরিকল্পিতভাবে চাষের আওতায় আনা গেলে নাগরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক অর্থনীতিও লাভবান হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন