আগস্ট ৩, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
দেশের কৃষিজমিতে ও ছাদবাগানগুলোতে এখন নিত্যনতুন বিদেশি ফলের চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কৃষকদের মধ্যে নতুন জাত নিয়ে কৌতূহল বাড়ায় সম্প্রতি একটি ছাদবাগানে উৎপাদিত তিনটি বিরল বা রেয়ার জাতের ড্রাগন ফলের স্বাদ ও গুণগত মান নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। আগ্রহ মেটাতে নাইট কুইন, লেমন ইয়েলো এবং আসন্তা ফাইভ নামের তিনটি জাতের ফলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়।
এই স্বাদ পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি মিষ্টি ও সুস্বাদু হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে লেমন ইয়েলো জাতটি।সাদা শাঁসযুক্ত এই ফলের মিষ্টতা পরিমাপক বা ব্রিক্স স্কোর পাওয়া গেছে একুশের বেশি। সাধারণত অন্যান্য ড্রাগনের ব্রিক্স স্কোর ষোলো থেকে আঠারো হয়ে থাকে। রসালো এই লেমন ইয়েলো ফলটি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু এবং এতে হালকা লিচুর ঘ্রাণ পাওয়া যায়।
এটি মূলত একটি স্ব-পরাগায়িত জাত হওয়ায় উৎপাদনকারীদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।স্বাদের দিক থেকে এরপরের অবস্থানে রয়েছে লাল রঙের আসন্তা ফাইভ জাতের ড্রাগন ফল। এই জাতটির ব্রিক্স স্কোর সতেরোর কাছাকাছি পাওয়া গেছে। এটি একটি ক্রস ভ্যারাইটি বা সংকর জাত হলেও খেতে যথেষ্ট সুস্বাদু ও মানসম্মত।পরিমিত বৃষ্টির অভাবে অনেক সময় ফলের আকার কিছুটা ছোট হলেও স্বাদে কোনো প্রভাব পড়ে না।
অন্যদিকে দেখতে সবচেয়ে আকর্ষণীয় নাইট কুইন জাতটির মিষ্টতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। যন্ত্রের সাহায্যে মেপে এই ফলের ব্রিক্স স্কোর পাওয়া গেছে মাত্র সাড়ে দশ। ফল হিসেবে খেতে খুব একটা মিষ্টি না হওয়ায় এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য উপযুক্ত নয়।তাছাড়া এই ফলের গাছে অত্যন্ত সুচালো কাঁটা থাকায় পরিপক্ব ফল সংগ্রহ করা বেশ কষ্টকর। বাণিজ্যিক সফলতার বদলে শুধুমাত্র ছাদবাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য মানুষ এই গাছটি নির্বাচন করতে পারেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন