শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
অপ্রচলিত ফল বিপ্লব

চুয়াডাঙ্গায় আলুবোখারা চাষে বাজিমাত সজলের

কৃষি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম

চুয়াডাঙ্গায় আলুবোখারা চাষে বাজিমাত সজলের

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অপ্রচলিত ও পুষ্টিকর ফল আলুবোখারা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সজল। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য বা বিভিন্ন দেশ থেকে চড়া দামে আমদানি হওয়া এই বিদেশি ফল দেশের মাটিতে ফলিয়ে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন তিনি। উপজেলার মানিকপুর গ্রামে প্রায় দুই বছর তিন মাস আগে রোপণ করা গাছগুলোয় এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো আলুবোখারা।

বিদেশি এই ফলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনায় দেশে তৈরি হচ্ছে নতুন দিগন্ত। আমদানি করা শুকনো আলুবোখারা দেশের বাজারে প্রতি কেজি বারো শত থেকে চৌদ্দ শত টাকায় বিক্রি হলেও সজল বাগান থেকেই কাঁচা ও তাজা ফল পাইকারি সাতশত টাকা দরে বিক্রি করছেন। একেকটি ছোট গাছেই গড়ে পনেরো থেকে বিশ কেজি পর্যন্ত ফলন এসেছে। পোলাও, বিরিয়ানি কিংবা চাটনি তৈরিতে ব্যবহৃত এই ফলের অনলাইন ও সরাসরি খুচরা বাজারে বিপুল চাহিদা রয়েছে।

মোট চার প্রকারের আলুবোখারা নিয়ে কাজ করলেও ভিয়েতনামী জাতটিতে সবচেয়ে দ্রুত ও বেশি ফলন পেয়েছেন সজল। প্রায় সাতাশ মাস আগে তিনি এক ফুট উচ্চতার চারা সাধারণ চাষ দেওয়া জমিতে বারো ফুট দূরত্ব বজায় রেখে রোপণ করেন। মাটিতে থাকা ক্ষতিকর কীট ও জীবাণু ধ্বংস করতে গর্তে ফিপ্ৰোনিল ও ফুরাডান ব্যবহার করা হয় এবং দ্রুত শিকড় গজানোর জন্য হিউমিক এসিড প্রয়োগ করা হয়েছিল। এই গাছে তেমন কোনো রোগবালাই নেই এবং অতিরিক্ত সার বা কীটনাশকের ঝামেলাও পোহাতে হয় না।

রোপণের প্রথম বছরেই হালকা ফলন এলেও চলতি মৌসুমে প্রতিটি গাছে ব্যাপক ফলন এসেছে। গাছের প্রতিটি ডালে গড়ে পঁচিশ থেকে ত্রিশটি করে ফল ধরেছে। প্রতি কেজিতে বিশ থেকে বাইশটি আলুবোখারা ধরে। আলুবোখারা এমন একটি ফল যার ডালে প্রচুর ফুল ও গুটি আসে, ফলে কিছু ঝরে গেলেও ফলনের কোনো ঘাটতি হয় না। গাছের বয়স যত বাড়ে, ফলনের পরিমাণও তত বৃদ্ধি পায়। ফল সংগ্রহের পর অন্যান্য ফলের মতো এই গাছের কোনো ডাল ছাঁটাই বা প্রুনিং করার প্রয়োজন হয় না।

সব ধরনের মাটিতেই আলুবোখারা চাষ সম্ভব। বেলে মাটি, এঁটেল মাটি, এমনকি পাহাড়ি এলাকা বা বসতবাড়ির পরিত্যক্ত জায়গাতেও এটি নির্বিঘ্নে বাড়ে। পাশাপাশি শখের বশে অনেকে ছাদেও ড্রামে এই গাছ লাগাতে পারেন। একটানা জলাবদ্ধতা ক্ষতিকর হলেও হালকা বর্ষার পানি জমে থাকলে গাছের কোনো ক্ষতি হয় না।

সজল জানান, ফলের আকার আরও বড় করতে চাইলে সঠিক সময়ে জিব্রেরেলিক এসিড স্প্রে করা যেতে পারে। বাণিজ্যিক চাহিদার কথা বিবেচনা করে তিনি গাছের ডাল থেকে সায়ন কেটে গ্রাফটিং বা টেপ কলমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করছেন। গাছের আকার ও উচ্চতাভেদে প্রতিটি চারা তিনশত, চারশত ও পাঁচশত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, আলুবোখারা শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই। এটি নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং হাড় মজবুত থাকে। পাশাপাশি এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে এবং কিডনি সুরক্ষায় মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।