শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পুনরায় কূটনৈতিক সংলাপের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ইচ্ছার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে সিউল প্রাথমিক সমন্বয় ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

লি জে-মিয়ং উল্লেখ করেছেন যে, উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ পুনরায় চালু করা যতটা সহজ, দুই কোরিয়ার মধ্যকার পারস্পরিক সংলাপ শুরু করা তার চেয়ে তুলনামূলক জটিল। নিজের প্রথম মেয়াদে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, ট্রাম্প সেই সুসম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে চান। চলতি বছরের শেষ নাগাদ কিমের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

কিম জং উনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ট্রাম্প। তার দাবি অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার সংগ্রহশালায় বর্তমানে ৫৭টি শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। যদিও দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব গোয়েন্দা হিসাবে উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রায় ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে বলে অনুমান করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কৌশলগত সমর্থন পেয়ে আসছে উত্তর কোরিয়া। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এর আগে ২০১৮ সালে দুই কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে লক্ষণীয় অগ্রগতি হয়েছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে হ্যানয়ে কিম জং উন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার শীর্ষ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে ফের অবনতির ধারা শুরু হয়। এদিকে বিচারিক পদক্ষেপে সম্প্রতি সিউলের একটি আদালত রায় দিয়েছেন যে, ২০২০ সালে আন্তঃকোরিয়ান লিয়াজো অফিস উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পিয়ংইয়ংকে প্রায় তিন কোটি ২৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কোরীয় উপদ্বীপে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগ উন্নয়নের লক্ষ্যেই ওই কার্যালয়টি স্থাপন করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে উত্তেজনার জেরে ধ্বংস করা হয়।

অন্য একটি ভূ-রাজনৈতিক প্রসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকটে দক্ষিণ কোরিয়া কোনো ধরনের সামরিক সেনা মোতায়েন করবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও কৌশলগত চাপের মুখে তিনি তিনবার স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করে এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপে সিউল অংশ নেবে না।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যুদ্ধে দেশের কোনো ধরনের সরাসরি সম্পৃক্ততা বা অংশগ্রহণ থাকবে না। হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সম্পদ পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে দেশজুড়ে চলমান সমালোচনার মুখে এই অবস্থান স্পষ্ট করল সিউল। তবে দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ এবং জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান নৌপথগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় ন্যূনতম প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।