শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ভারতীয় পণ্যে শতভাগ শুল্কের বিলে সই করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১০:০১ এএম

ভারতীয় পণ্যে শতভাগ শুল্কের বিলে সই করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন একটি নিষেধাজ্ঞা আইনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আইন পাস হওয়ার ফলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা অর্জন করেছে মার্কিন প্রশাসন। এর মাধ্যমে ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোর নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর কঠোর শুল্ক বসানোর পথ উন্মুক্ত হলো।

‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট ২০২৬’ শিরোনামের এই নতুন আইনটি মূলত রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, প্রধান আর্থিক ব্যাংক, দেশের জ্বালানি খাত এবং মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের বিধান অনুযায়ী, রুশ পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত এবং মস্কো থেকে জ্বালানি ক্রয়কারী দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের আইনি সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারতের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হচ্ছে না। এই আইনটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতা প্রদান করেছে; ট্রাম্প প্রশাসন তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়োগ করলেই কেবল ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে নতুন এই শুল্ক কার্যকর বলে গণ্য হবে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, দেশের একচল্লিশ কোটি মানুষের ধারাবাহিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সর্বদা বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে কাঁচামাল ও তেল আমদানি অব্যাহত রাখবে। একই সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

এর আগে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক চাপানো হয়েছিল। পরবর্তীতে দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং পারস্পরিক শুল্কের হার কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল।

মার্কিন কংগ্রেসে এই বিল পাস হলেও দেশটির কয়েকজন রক্ষণশীল রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা নতুন করে শুল্ক আরোপের এই নির্বাহী ক্ষমতা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, পণ্যের ওপর অতিরিক্ত এই শুল্কের বোঝা শেষ পর্যন্ত মার্কিন সাধারণ ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপবে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেবে।