শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
কৃষি বাণিজ্য সম্ভাবনা

এক বিঘা জমিতে গোলমরিচ চাষে চার লাখ টাকা আয়ের সুযোগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১১:০৩ এএম

এক বিঘা জমিতে গোলমরিচ চাষে চার লাখ টাকা আয়ের সুযোগ

এক বিঘা জমিতে গোলমরিচ চাষ করে বছরে চার লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়তি আয় করার অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বহুস্তরীয় সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থায় অন্য গাছের ক্ষতি না করেই সাথী ফসল হিসেবে অর্থকরী এই মসলা চাষের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সাফল্য আসছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদিয়া জেলার কল্যাণীস্থ বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মসলা বিভাগের দীর্ঘদিনের গবেষণায় উঠে এসেছে এই চিত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের মসলা বিভাগের অধ্যাপক দীপক ঘোষ জানান, পান চাষ যেখানে সম্ভব, সেখানেই অনায়াসে গোলমরিচ চাষ করা যায়। দুটি উদ্ভিদই একই পাইপারেসি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। দক্ষিণ ভারতের মতো অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে গোলমরিচ উৎপাদন পুরোপুরি সম্ভব।

গোলমরিচকে বৈশ্বিকভাবে মসলার রাজা ও কালো সোনা হিসেবে গণ্য করা হয়। বাণিজ্যিক হিসাব অনুযায়ী, ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রেখে এক বিঘা জমিতে প্রায় তিনশটি গোলমরিচের চারা রোপণ করা যায়। প্রতি চারার বাজারদর গড়ে চল্লিশ টাকা ধরে মোট চারার পেছনে ব্যয় হয় বারো হাজার টাকা। চারা রোপণের জন্য গর্ত তৈরি, জৈব সার ও শ্রমিক খরচ বাবদ প্রথম বছরে সার্বিক বিনিয়োগ দাঁড়ায় প্রায় পঁচিশ হাজার টাকা। দ্বিতীয় বছর থেকে পরিচর্যা, জৈব উপাদান ও শ্রমিক বাবদ বার্ষিক ব্যয় নেমে আসে দশ থেকে বারো হাজার টাকায়। রোপণ থেকে ফলন আসা পর্যন্ত চার বছরে মোট খরচ হয় প্রায় ষাট হাজার টাকা।

পঞ্চম বছর থেকে গাছে বাণিজ্যিকভাবে পূর্ণাঙ্গ ফলন আসতে শুরু করে। অধ্যাপক দীপক ঘোষের ভাষ্যমতে, একটি গাছ একটানা পঁচিশ বছর বেঁচে থাকে। শৈশবের চার বছর পার করার পর অবশিষ্ট কুড়ি বছর নিয়মিত উৎপাদন পাওয়া যায়। পূর্ণাঙ্গ দশ বছরের একটি গাছ থেকে গড়ে পনেরো থেকে কুড়ি কেজি কাঁচা গোলমরিচ পাওয়া সম্ভব। শুকানোর পর চার অনুপাত এক হারে চার থেকে পাঁচ কেজি শুকনো ফল পাওয়া যায়। বাজারে প্রতি কেজি শুকনো গোলমরিচের পাইকারি দর সর্বনিম্ন সাতশ টাকা হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে তিনশ গাছ থেকে ছয়শ কেজি শুকনো ফল মিললে আয় দাঁড়ায় চার লাখ কুড়ি হাজার টাকা। বার্ষিক তদারকি ও ফসল সংগ্রহের খরচ বাদ দিলেও এক বিঘা জমি থেকে নীট মুনাফা থাকে প্রায় চার লাখ টাকা।

গাছের গোড়ায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না। বেলে দোআঁশ মাটিতে বছরে প্রায় দুইশ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত ও সর্বোচ্চ চল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এই ফসলের বৃদ্ধির জন্য অনুকূল। গোলমরিচ একটি আরোহী লতা জাতীয় উদ্ভিদ হলেও মূল গাছের শরীর থেকে কোনো খাদ্য বা পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে না। মাটির আদ্রতা থেকেই সম্পূর্ণ রসদ সংগ্রহ করে। এর পরাগায়ন ঘটে মূলত বৃষ্টির পানির মাধ্যমে। সুপারি বা নারকেল গাছে লতা কুড়ি থেকে পঁচিশ ফুটের বেশি বাড়তে না দিয়ে নিয়মিত ছাঁটাই করলে পার্শ্বীয় শাখা ও ফলন বাড়ে। উপরন্তু ছাঁটাইকৃত লতা থেকে চারা তৈরি করে বছরে বাড়তি প্রায় এক লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়।

দেরিতে ফলন আসার বিকল্প হিসেবে রয়েছে টবে বুশ পেপার চাষ। টবে কাটিং লাগালে দ্বিতীয় বছর থেকেই চারশ থেকে পাঁচশ গ্রাম পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। ফলে বহুস্তরীয় বাগানে নারকেল, সুপারি বা বনজ গাছের ছায়ায় নিচে হলুদ ও কাণ্ডে গোলমরিচ রোপণ করে কৃষকরা একই জমি থেকে বহুমুখী মুনাফা অর্জন করতে পারেন।