সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১১:৪১ এএম
উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী জুবিন গার্গের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। গত বছরের এই দিনে ভক্ত ও স্বজনদের স্তব্ধ করে চিরবিদায় নেন আসাম ও বাংলার এই জনপ্রিয় শিল্পী। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে চল্লিশটিরও বেশি ভাষায় গেয়েছেন প্রায় চল্লিশ হাজার গান।
বলিউডে আকাশচুম্বী সাফল্য পেলেও জুবিন গার্গের আত্মিক টান ছিল আসাম ও বাংলার সংস্কৃতিতে। ১৯৯২ সালে অসমীয়া ভাষার একক অ্যালবাম `অনামিকা` প্রকাশের মধ্য দিয়ে গানের ভূবনে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। একই বছর `সপুরনোর সুর` ও `অনুরাধা` নামের আরও দুটি অ্যালবাম মুক্তি পায়। পরবর্তীতে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে প্রবেশ করেন মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র অঙ্গনে। ২০০৬ সালে অনুরাগ বসুর `গ্যাংস্টার` চলচ্চিত্রে `ইয়া আলি` গানটির মাধ্যমে রাতারাতি খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছান এই গায়ক। এরপর `আই সি ইউ` সিনেমার `সুবাহ সুবাহ` কিংবা `কৃষ থ্রি` ছবির `দিল তু হি বাতা` গানের মাধ্যমে জয় করেন কোটি শ্রোতার হৃদয়। হিন্দির পাশাপাশি কলকাতার বাংলা চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন নিয়মিত ও শীর্ষ কণ্ঠশিল্পী। দেব, সোহম ও রাহুলের মতো তারকাদের একাধিক জনপ্রিয় সিনেমার নেপথ্যে ছিল তার যাদুকরী পরিবেশনা। `বোঝেনা সে বোঝেনা`, `পিয়া রে` কিংবা `মন মানেনা`র মতো গানগুলো এখনো ভক্তদের মুখে মুখে ফেরে।
১৯৭২ সালের ১৮ নভেম্বর মেঘালয়ের তুরা শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার সংগীতের হাতেখড়ি হয়েছিল মায়ের কাছে। পরবর্তীতে গুরু রবীন ব্যানার্জীর কাছে তবলা ও গানের উচ্চতর তালিম নেন এবং রমনী রায়ের কাছে শেখেন অসমীয়া লোকসঙ্গীত। শুধু কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই নন, সফল অভিনেতা ও চিত্রনির্মাতা হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। ২০০০ সালে `তুমি মোর মাথো মোর` সিনেমার মধ্য দিয়ে তার নির্মাণ ও অভিনয়ের যাত্রা শুরু হয়। এরপর `দিনবন্ধু`, `মন যায়`, `মিশন চায়না`, `কাঞ্চনজঙ্ঘা` ও ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত `রই রই বিনালে` চলচ্চিত্রে তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
বলিউডের সাফল্যের চূড়ায় থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। কলকাতায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অকপট এই শিল্পী জানিয়েছিলেন, মুম্বাইয়ের শিল্পাঙ্গনে অতিমাত্রায় নকল করার প্রবণতার কারণে তিনি মূলধারার হিন্দি সিনেমার চেয়ে আঞ্চলিক চলচ্চিত্র ও নিজস্ব সংগীত সৃষ্টিতে মনোযোগ দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। নিজের আত্মিক টান প্রসঙ্গে তিনি খোলাখুলি বলেছিলেন, আসাম ও বাংলার সংস্কৃতি, সুর এবং খাদ্যাভ্যাস একই সুতোয় গাঁথা হওয়ায় তিনি নিজেকে মনেপ্রাণে আধা বাঙালি বলেই গণ্য করতেন।
সিঙ্গাপুরের মঞ্চে সংগীত পরিবেশনের কথা থাকলেও গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর আকস্মিকভাবে নিভে যায় তার জীবনপ্রদীপ। সিঙ্গাপুর প্রশাসনের প্রাথমিক প্রতিবেদনে পানিতে ডুবে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর কথা বলা হলেও আসাম পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল বিষয়টি নিয়ে ফৌজদারি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনায় দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও হত্যার অভিযোগ এনে শিল্পীর অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপকসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি টানাপোড়েন চলমান থাকলেও সুরের ভুবনে জুবিন গার্গ কোটি ভক্তের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন