শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
দুর্নীতিবিরোধী প্রত্যয়

দুর্নীতির পাহাড় ভেঙে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ডাক তারেক রহমানের

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১২:২১ পিএম

দুর্নীতির পাহাড় ভেঙে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ডাক তারেক রহমানের

প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতির দীর্ঘস্থায়ী ধারা চূর্ণ করে একটি নতুন, সমৃদ্ধ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সমাপনী বক্তব্যে তিনি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে দুর্নীতি প্রতিরোধে এই কঠোর বার্তা দেন।

স্বাধীনতার ৫৬ বছরে এসেও সাধারণ মানুষ সার্বিক সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের কারণে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে এই অপতৎপরতা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ছিল না। এটি সচিবালয় থেকে তৃণমূলের ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত বিস্তৃত রূপ লাভ করেছিল। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মেগা প্রকল্পের আড়ালে অর্থ পাচার, ব্যাংক থেকে বিপুল তহবিল সরিয়ে নেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামোর নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। যার ফলে বর্তমান প্রশাসনকে বিপুল দেনার দায় বহন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সনদ, জন্মনিবন্ধন, ভূমি অফিসের নামজারি কিংবা স্বাস্থ্যসেবা নিতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি ও ঘুষের মুখে পড়তে হয়।

সমাজে দুর্নীতির প্রভাব অপরাধ চক্রের বিস্তারের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। মাদকের বিস্তার যুবসমাজকে সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি বিপুল অবৈধ অর্থ ও প্রশাসনিক সুযোগ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাস জননিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত করেছে। হাটবাজার, পরিবহন খাত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির কারণে পণ্যের মূল্যে প্রভাব পড়েছে। বেদখল হয়েছে সরকারি জমি, নদী ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি। টেন্ডার ও নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার মূল্যায়ন ছিল না। রাজনৈতিক প্রভাবে ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থ তসরুফ করা হয়েছে। মেধা উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে পদ প্রদান করায় সৎ ব্যক্তিরা বঞ্চিত হয়েছেন। পরবর্তীতে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে চাকরিতে আসা ব্যক্তিরা অনিয়মে যুক্ত হয়েছেন এবং বদলি কার্যক্রম পেশাদারিত্ব নষ্ট করেছে। কর্মসংস্থানে ন্যায্যতার অভাবে বহু তরুণ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বে একটি নির্দিষ্ট দেশকে সুবিধা দিতে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা পরবর্তীকালে শিল্প ও গৃহস্থালিতে তীব্র জ্বালানি সংকট ডেকে আনে।

সংসদকে সকল আলোচনা ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী তরুণ ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে একটি শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে প্রতিটি নাগরিকের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।