শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
ছাদবাগান ও পারিবারিক কৃষি

ছাদবাগানে সবজির খামার গড়ে স্বাবলম্বী সেনা কর্মকর্তা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১১:১৩ এএম

ছাদবাগানে সবজির খামার গড়ে স্বাবলম্বী সেনা কর্মকর্তা

রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদে গড়ে তোলা হয়েছে এক টুকরো সবুজ প্রান্তর। প্রায় দুই হাজার ছয়শ বর্গফুট আয়তনের এই দ্বিস্তরের ছাদকে পরিণত করা হয়েছে পারিবারিক সবজি ও ফলের উর্বর বাগানে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে গড়ে তোলা এই আয়োজন থেকে এখন পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদার সিংহভাগ শাকসবজি ও ফল উৎপাদিত হচ্ছে।

২০০৬ সালে নিজের এই বাসভবনে ওঠার পর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল বজলুর রহমান সীমিত পরিসরে ছাদবাগান শুরু করেন। শুরুর দিকে শখের বশে ফুল ও বাহারি গাছ লাগানো হলেও ধীরে ধীরে তা বিস্তৃত কৃষি কর্মকাণ্ডে রূপ নেয়। ছাদের রেলিং ঘেঁষে ইটের তৈরি স্থায়ী বেড বা হাউজ নির্মাণ করে সেখানে পর্যাপ্ত মাটি দিয়ে ফসলি জমির রূপ দেওয়া হয়েছে। সেখানে মাটির পাত্র, টব ও ড্রামে চাষ হচ্ছে ফলমূল এবং শাকসবজি।

ছাদের মূল অংশে মাটির বেডে বছরজুড়ে পুইশাক, লালশাক, কলমিশাক, পাটশাক ও মিষ্টি আলুর আবাদ চলছে। মাচায় ঝুলছে লাউ, শসা ও উচ্ছে। পাশাপাশি লেবু, পেঁপে, ডালিম, জাম্বুরা, জলপাই, আতাফল, আমড়া এবং আনারসের মতো নানা ফলদ বৃক্ষ নিয়মিত ফলন দিচ্ছে। বাগানের প্রধান আকর্ষণ আম গাছ। ছাদের বড় আকারের বেডে থাকা কয়েকটি আম গাছের মধ্যে বারোমাসি জাতের গাছগুলোতে নিয়মিত ফলন আসছে। কিছু গাছে নিয়মিত কাটিং ও ছাঁটাই না করায় পাতার ঝোপ বেড়ে শাখাপ্রশাখা বিস্তার করেছে। তবে নতুন লাগানো গাছে মুকুল ও ফলের প্রাচুর্য দেখা যাচ্ছে। ক্ষতিকর পোকা দমনে রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে এখানে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রাকৃতিক সেক্স ফেরোমন ফাঁদ।

শীতকালে ছাদের এই আয়োজনে যুক্ত হয় ফুলকপি, বাঁধাকপি ও বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি। ফলন এতটাই সন্তোষজনক যে বাইরের বাজার থেকে শাকসবজি কেনার প্রয়োজনীয়তা প্রায় থাকে না বললেই চলে। কেবল যেসব ফসল ছাদে উৎপাদিত হয় না, সেগুলোই বাইরে থেকে কিনতে হয়।

এই ছাদ এখন পুরো পরিবারের যৌথ আবাসে পরিণত হয়েছে। বজলুর রহমানের মেয়ে সাবিহা রহমান জিতু জানান, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল পুরো ছাদটি অর্কিড বাগান হিসেবে সাজানোর। পরবর্তীতে ছাদে আংশিক আবাসিক ইউনিট নির্মাণের পর চারপাশের ইট-পাথরের বহুতল ভবনের মাঝে পরিবারের ছোট শিশুদের জন্য নির্মল আলো-বাতাস ও সবুজ পরিবেশ তৈরি করতে শাকসবজির এই বাগান করা হয়। কৃত্রিম গ্যাজেট ও মোবাইল স্ক্রিনের বাইরে এসে পরিবারের শিশুরা মাটিতে পা রেখে সবুজ পাতার স্পর্শ পাচ্ছে। ছাদের এক কোণে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ও মশার বংশবৃদ্ধি রোধে গাপ্পি মাছের ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে তৈরি করা হয়েছে জৈব সার প্রস্তুতের জন্য কম্পোস্ট পিট।

পরিবারের অন্য সদস্যরাও যুক্ত হচ্ছেন এই সবুজ চর্চায়। বজলুর রহমানের মেয়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন, যেখানে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে উপহার হিসেবে চারা গাছ তুলে দেওয়া হয়। এমনকি পারিবারিক যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনকে উপহার হিসেবে গাছের চারা প্রদান করা হয়। যান্ত্রিক নাগরিক জীবনে এমন সমন্বিত ছাদবাগান পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি মানবিক প্রশান্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।