সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণের কার্যক্রমে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে সরকার। নিম্ন আয়ের মানুষের সঠিক সংজ্ঞা এবং কারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন, তা স্পষ্ট করে নতুন নীতিমালা জারি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার জারি করা এই সমন্বিত নির্দেশনায় উপকারভোগী বাছাই থেকে শুরু করে পণ্য বিক্রি ও তদারকির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘সমগ্র বাংলাদেশে টিসিবির উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভর্তুকি বা সাশ্রয়ীমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২৬’ শীর্ষক আদেশে বলা হয়, সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে হতদরিদ্র পরিবার, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চা-শ্রমিক, চাতালশ্রমিক, কারখানার সাধারণ শ্রমিক এবং উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তিরা কার্ডের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এর পাশাপাশি বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্ত এবং অসচ্ছল প্রবীণ নারীপ্রধান পরিবারকে তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যেসকল পরিবারে শিশু কিংবা প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে, তারাও অগ্রাধিকার তালিকায় স্থান পাবেন।
তবে একই পরিবার থেকে একাধিক ব্যক্তি এই কার্ডের সুবিধা পাবেন না। সুবিধাভোগী হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি জমা দিতে হবে। এর সাথে উপকারভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর থাকতে হবে। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
সংগৃহীত সকল তথ্য টিসিবির বিশেষ ডিজিটাল সেবা অ্যাপের তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করা হবে। পুরো কার্যক্রমটি স্বচ্ছ করতে সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে পৃথক তদারক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ের কমিটিতে জেলা প্রশাসক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংশ্লিষ্ট জেলার সংসদ সদস্যরা উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন। এই কমিটিতে পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভার মেয়র বা প্রশাসক, খাদ্য নিয়ন্ত্রক, সমাজসেবা কর্মকর্তা, ত্রাণ কর্মকর্তা এবং মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে যুক্ত থাকবেন।
উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কমিটি কাজ করবে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে গঠিত ‘ট্যাগ টিম’ ডিলারের বিক্রয় পয়েন্ট সরাসরি তদারক করবে। অনিয়ম রোধে ডিলারের দোকানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং দৃশ্যমান স্থানে পণ্যের মূল্যতালিকা, বিতরণের তারিখ ও পরিমাণের তথ্য টাঙিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি কার্ডধারী পরিবার দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি মসুর ডাল এবং এক কেজি চিনি পাবেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের ওপর ভিত্তি করে প্রতি পরিবারকে পাঁচ কেজি চালও দেওয়া হবে। এছাড়া পবিত্র রমজান ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের জন্য ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ৭৫ লাখ কার্ডধারী রয়েছেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, অনিয়ম ও ভুয়া তথ্যের কারণে ইতিমধ্যে ৫৯ লাখ কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এসব কার্ড এখন ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবি সাশ্রয়ী মূল্যে দুই লাখ টন ভোজ্যতেল, দুই লাখ ২০ হাজার টন মসুর ডাল এবং এক লাখ ১০ হাজার টন চিনি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটির মাধ্যমে প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১০০ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬০ টাকা এবং প্রতি কেজি চিনি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসব পণ্যে সরকারকে দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমে দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকায় নামবে বলে প্রত্যাশা করছে সংস্থাটি। টিসিবির উপপরিচালক শাহাদত হোসেন উল্লেখ করেছেন, নতুন নির্দেশিকা মাঠপর্যায়ে কার্যকর হলে বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন