বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানের সাথে আলোচনা নেই, শিগগিরই কিছু ঘটতে যাচ্ছে বললেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১১:১৩ এএম

ইরানের সাথে আলোচনা নেই, শিগগিরই কিছু ঘটতে যাচ্ছে বললেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অতি দ্রুত বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২১ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় একটি জনসমাবেশ শেষে ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। আলোচনার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তার কাছে মনে হয় না ওয়াশিংটন বর্তমানে তেহরানের সাথে কোনো সমঝোতা বৈঠকে যুক্ত আছে। তবে যেভাবেই হোক, খুব দ্রুতই বড় কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে বলে তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন। বেশিরভাগ বিশ্লেষক বিষয়টি মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরে ঘটবে বলে ধারণা করলেও তিনি পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।

এর আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প দাবি করেন, ওয়াশিংটন চাইলে এই মুহূর্তেই যুদ্ধের ইতি টানতে পারে। কিন্তু তারা এমন একটি সমাধান নিশ্চিত করতে আগ্রহী যা দীর্ঘকাল স্থায়ী হবে।

তিনি দাবি করেন, সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোণঠাসা ও পরাস্ত করেছে। তেহরান কোনো অবস্থাতেই যাতে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিকানা অর্জন করতে না পারে, সে ব্যাপারে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

সংঘাত বন্ধের চেয়ে টেকসই নিয়ন্ত্রণের প্রতি জোর দিচ্ছে হোয়াইট হাউস।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে নতুন করে সমন্বিত হামলা চালানোর সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। এই প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনা প্রস্তুত থাকলেও ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এই আগ্রাসনের অনুমোদন দেবেন কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। চলতি বছর বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় শুরু করার কয়েকটি প্রস্তাবে তিনি নিজেই একাধিকবার ভেটো দিয়েছিলেন।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সংঘাত তীব্র রূপ নেয়।

এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ শুরু করে তেহরান। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। গত জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক সই হলেও নৌচলাচলের নিয়ম ও অন্যান্য মতবিরোধের কারণে সেই শান্তি প্রক্রিয়া বর্তমানে পুরোপুরি স্থবির হয়ে রয়েছে।