অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১০:২২ এএম
মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনার মুখে নিজেদের বিভিন্ন কৌশলগত ঘাঁটি থেকে নীরবে সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের একাধিক কূটনৈতিক মিশন থেকে জরুরি দায়িত্বে না থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইরানে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন করে বড় মাপের আঘাত হানার বিভিন্ন প্রস্তাব সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন। এর অংশ হিসেবেই মাঠপর্যায়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও কূটনীতিকদের এমন পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজ। সংশ্লিষ্ট দুইজন কর্মকর্তা এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল অপর দুই সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র দপ্তরের এই পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা গত ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত যৌথ হামলার পূর্ববর্তী সামরিক প্রস্তুতির সঙ্গে হুবহু মিল খুঁজে পাচ্ছেন।
জর্ডান, কাতার এবং কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের একটি বড় অংশকে ইতোমধ্যেই অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অবস্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে যে তারা অঞ্চলটির ঘাঁটিগুলোতে সীমিত আকারের সামরিক উপস্থিতি বহাল রাখবে। আকাশ প্রতিরক্ষা এবং সার্বিক আঞ্চলিক নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা সরাসরি নিয়োজিত আছেন, তাদেরকে স্ব স্ব অবস্থানে মোতায়েন রাখা হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার সময়ও সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা আঘাতের ঝুঁকি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্যকে সরিয়ে নিয়েছিল পেন্টাগন। সে সময় হাজার হাজার সেনাকে সাধারণ বেসামরিক হোটেল ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হয়। এই পদক্ষেপের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দাদের `মানবঢাল` হিসেবে ব্যবহার করার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তোলে তেহরান।
সৈন্যদের এমন তৎপরতা ও গতিবিধি প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। তিনি কেবল উল্লেখ করেন, সামরিক মিশন পরিচালনায় সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে বাহিনীকে প্রায়শই নতুন করে বিন্যস্ত করা হয় এবং মার্কিন কর্মী ও আঞ্চলিক স্বার্থ সুরক্ষায় সেনাবাহিনী সর্বদা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামোতে লাগাতার হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় সৌদি আরব থেকেও অতিরিক্ত কূটনৈতিক কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকেও আমেরিকান কূটনৈতিক উপস্থিতি আরও সংকুচিত করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট কূটনৈতিক প্রত্যাহারের এসব প্রতিবেদনকে অসংগত বলে মন্তব্য করেছেন।
এমন স্পর্শকাতর ঘটনাবলী প্রকাশ্যে এসেছে ঠিক তখনই, যখন উচ্চপদস্থ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পের টেবিলে ইরানে আঘাত হানার একাধিক বিকল্প কৌশল তুলে ধরেছেন।
এনবিসি নিউজের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের সামনে উত্থাপিত সামরিক পরিকল্পনার তালিকায় রয়েছে ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, মাটির তলদেশের গভীর সামরিক বাঙ্কার এবং কৌশলগত জলপথের সংবেদনশীল দ্বীপগুলো। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তেল রপ্তানির মূল কেন্দ্র খারগ দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে অবস্থিত কেশম দ্বীপকে।
যুদ্ধবিষয়ক সচিব পিট হেগসেথসহ ট্রাম্পের প্রভাবশালী কতিপয় সামরিক উপদেষ্টা তেহরানের ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ চূড়ান্ত মাত্রায় বাড়াতে অবিলম্বে কঠোর অভিযান শুরুর জোরালো সুপারিশ করেছেন। তবে প্রশাসনের অপর একটি শীর্ষ অংশ সুনির্দিষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য ও পরবর্তী পরিণতি নিশ্চিত না করে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য ভয়াবহতা নিয়ে স্পষ্ট সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে।
সূত্র: আরটি

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন