সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
জর্ডানে ইরানের ছোড়া একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে নজিরবিহীন সংখ্যক অত্যাধুনিক প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। জর্ডানের আকাশসীমা লক্ষ্য করে তেহরানের ছোড়া প্রায় ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে ৬০ থেকে ৭০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং এক ডজনের বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ছুড়তে হয়েছে। একক কোনো হামলায় ব্যবহৃত এই বিশাল সংখ্যক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র অন্য স্বাভাবিক সময়ের পুরো এক সপ্তাহের সমপরিমাণ।
তবে শতভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারেনি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলায় ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছে। বিশেষ করে লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছে একাধিক খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যাওয়া ওয়ারহেড ব্যবহার করায় সেগুলোকে মাঝআকাশে শনাক্ত ও ধ্বংস করা মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে। আকাশ প্রতিরক্ষার দেয়াল ভেদ করে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানে। এর ফলে সেখানে মোতায়েন থাকা কয়েকটি যুদ্ধবিমানসহ বেশ কিছু উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতে ইরানের মুহুর্মুহু আক্রমণের কারণে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন কৌশলগত অস্ত্রভাণ্ডারের সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের মধ্য জুলাই পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী প্রায় এক হাজার ৭০০টি প্যাট্রিয়ট এবং ২০০টিরও বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি লোহিত সাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে ইরানি ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরীগুলো থেকে প্রায় ১৫০টি স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল ছোড়া হয়েছে।
অস্ত্রভাণ্ডার শূন্য হয়ে যাওয়ার দাবিকে পেন্টাগন অসত্য বলে উড়িয়ে দিলেও প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে যে অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে কৌশলগত মজুতে মারাত্মক টান পড়েছে। প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার মূল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন ২০২৫ সালে ৬২০টি ইন্টারসেপ্টর তৈরি করেছিল, যা বর্তমানে বছরে প্রায় দুই হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন