সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখার কারণে ভারত ও চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ লক্ষ্যে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে ‘লিন্ডসে গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট, ২০২৬’ শীর্ষক একটি বিশেষ বিল পাসের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার প্রস্তাবটি নিয়ে ভোটাভুটিতে ২১৪-২১১ ব্যবধানে বিলটি পরবর্তী ধাপের জন্য অনুমোদন পায়।
চূড়ান্ত অনুমোদনের পর বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। এই প্রস্তাবটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে শতভাগ শুল্ক চাপানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর বিদ্যমান বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার আওতা বাড়ানোর সরাসরি আইনি ক্ষমতা পাবেন। এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি বিপুল ব্যবধানে অনুমোদিত হয়েছিল।
নতুন এই বিধানে মস্কোর নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর ব্যাপক আর্থিক অবরোধ আরোপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে তেল পরিবহনে যুক্ত গোপন নৌবহরের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রাখা হয়েছে। বিলের কঠোরতা নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা গ্রেগরি মিকস অভিযোগ তুলেছেন, পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ বা জবাবদিহিমূলক সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই এই বিলটি প্রেসিডেন্টের হাতে একতরফা ও অবাধ শুল্ক আরোপের মারাত্মক ক্ষমতা তুলে দেবে।
তবে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের বড় অংশের অবস্থান হলো, রাশিয়ার এই ধরনের আন্তর্জাতিক তেল বিক্রির অর্থ সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধের সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত ভোটাভুটির পর রাষ্ট্রপ্রধানের স্বাক্ষরের মাধ্যমে আইনটি কার্যকর হলে তা নয়াদিল্লির বাণিজ্যিক স্বার্থে মারাত্মক আঘাত হানবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন