বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
পাঠ্যক্রম সংস্কার

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের উদ্যোগে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম ও দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা স্মৃতিচারণমূলক নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’। সেই সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার তার ব্যক্তিগত একটি ঐতিহাসিক ডায়েরির আলোকচিত্রও পাঠ্যপুস্তকে সন্নিবেশিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি ইতিমধ্যে এই প্রস্তাবটির চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পন্ন করেছে। পাঠ্যবইয়ে নিবন্ধটি ২২ নম্বর গদ্য হিসেবে স্থান পাচ্ছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা নিশ্চিত করেছেন, গত ২৪ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমন্বয় কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধে যার যতটুকু ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে তা কোনো প্রকার পক্ষপাত ছাড়া নির্মোহভাবে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের ফলে নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের একটি প্রত্যক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ দলিল অধ্যয়নের সুযোগ পাবে।

সিদ্ধান্তটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদেরা। জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ মন্তব্য করেন, নিবন্ধটির বিশেষ ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বাস্তব প্রেক্ষাপট সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে পারবে। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, অতীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে যেভাবে একপাক্ষিক ইতিহাস রচনার ধারা তৈরি হয়েছিল, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই প্রবণতা দূর হয়ে নিরপেক্ষ ইতিহাস চর্চার পথ সুগম হবে।

পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত হতে যাওয়া অংশে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, এক নম্বর সেক্টর কমান্ডার এবং বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাথে মুক্তিযুদ্ধকে একটি সর্বাত্মক জনযুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হলে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিকামী জনগণের জন্য এক অনুপ্রেরণাদায়ী তূর্যধ্বনি। 

এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে দেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক কৃতিত্ব নয়; বরং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান এবং তাজউদ্দীন আহমেদসহ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের অবদানেই বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রবন্ধটিতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণে ১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোর ঘটনাক্রম বিশদভাবে উঠে এসেছে। এতে মার্চ মাসের শুরু থেকেই পাকিস্তানি বাহিনীর সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, আগ্রাবাদের ব্যারিকেডে দাঁড়িয়ে মেজর খালিকুজ্জামানের কাছ থেকে খবর পেয়ে সরাসরি ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা এবং ষোলশহরে উপস্থিত হয়ে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের বিবরণ রয়েছে। 

পরবর্তীতে টেলিফোন অপারেটরের মাধ্যমে বেসামরিক প্রশাসনকে খবর পাঠানো, ২৬ মার্চ রাত দুইটা ১৫ মিনিটে সৈন্যদের নিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধের সূচনা, পটিয়ার পাহাড়ে মুক্তাঞ্চল গঠন এবং ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের রোমাঞ্চকর ইতিহাসও এই নিবন্ধে স্থান পেয়েছে। ১৯৭২ সালে তৎকালীন ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ১৯৮০ সালে ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত বিবরণীর ওপর ভিত্তি করে এই সংকলনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।