রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং ও সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা জানান।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারের প্লেনারি সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি কাঠামোর সাথে মানিয়ে নিতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত অর্থাৎ স্টেম শিক্ষাব্যবস্থাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কেবল মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েই নয়, বরং উচ্চশিক্ষা স্তরেও এই সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

দেশের উচ্চশিক্ষাকে বাস্তব জীবনের চাহিদার সাথে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় আড়াই হাজার অধিভুক্ত কলেজে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশের শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা গেলে সেখান থেকে মানসম্মত উদ্ভাবন বেরিয়ে আসবে। সেই উদ্ভাবন নতুন নতুন স্টার্টআপ ও ব্যবসা প্রসারের মাধ্যমে তরুণদের জন্য বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

শিক্ষার্থীদের পুঁথিগত বিদ্যার সীমাবদ্ধতা দূর করতে সরকার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত কারিকুলাম সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। মাহ্দী আমিন জানান, প্রাথমিক স্তরে চতুর্থ শ্রেণিতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি নামে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে আনন্দের সাথে শিক্ষা চালুর পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। দেশের যেকোনো প্রান্তের বা স্তরের বিদ্যালয় হোক না কেন, এমনকি নামিদামি স্কুলের সেরা শিক্ষার্থীকেও ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এই কারিগরি অংশ সম্পন্ন করতে হবে। উন্নত দেশগুলোর মতো ভোকেশনাল শিক্ষাকে সামাজিক ট্যাবু মুক্ত করে সাধারণ শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করাই এর লক্ষ্য।

শিক্ষা ও শিল্প খাতের মেলবন্ধন জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমৃদ্ধ নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো দেশেও তহবিল ও গবেষণার সুবিধার্থে এই নেটওয়ার্ক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণদের মেধা পাচার ঠেকিয়ে তা মেধার সঞ্চালনে রূপান্তর করতে সরকার নীতিমালা তৈরি করছে। স্থানীয় শিল্প খাতের প্রযুক্তিগত সমস্যা দূর করতে রাজশাহী, সিলেট বা খুলনার জেলাভিত্তিক কারখানাগুলোর সঙ্গে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সরাসরি সমন্বয় গড়ে তোলা হবে।

দক্ষতা উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি করে উৎকর্ষ কেন্দ্র বা সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো প্রযুক্তি হস্তান্তর, ইন্টার্নশিপ ও ক্যারিয়ার মেলার আয়োজন করবে। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর জনমিতিক সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের বিশেষ ফেলোশিপের মাধ্যমে দেশের পাঠ্যক্রমের সাথে যুক্ত করা হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের শিক্ষা প্রধান এস কিয়াং কো, টেলিযোগাযোগ খাতের কর্মকর্তা তানভীর মোহাম্মদ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম বক্তব্য দেন।