নভেম্বর ৫, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
হামজা চৌধুরীর অনুপস্থিতি এবং শেষ মুহূর্তে চোট পাওয়া তপু বর্মণকে ছাড়াই বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছাড়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে এই ম্যাচে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়েই জয় তুলে নিয়েছে কোচ টমাস ডুলির দল। ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সফলভাবে সাফের মিশন শুরু হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।
অনেক অপেক্ষার পর ম্যাচের ৬৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই গোল করেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। শেষ পর্যন্ত তার করা ওই এক গোলেই জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। ভুটানের বিপক্ষে এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। আগামী ১১ নভেম্বর গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা।
জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচের সময় দর্শকের উপস্থিতি ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। ২২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রায় ১৩ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। গ্যালারির এই দর্শকদের হতাশ করেনি বাংলাদেশ। প্রত্যাশিত জয় উপহার দিয়েছেন ইব্রাহিমরা। তবে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেভাবে আক্রমণাত্মক খেলেছে দল, তাতে ভুটানের বিপক্ষে আরও বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া সম্ভব ছিল। ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা এবং গোলমুখে খেলোয়াড়দের তালগোল পাকানোর পুরনো দৃশ্যটি আবারও প্রকট হয়ে ওঠে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় কোচ টমাস ডুলির দল। একের পর এক আক্রমণে ভুটান দলকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে স্বাগতিকরা। তাদের আক্রমণ সামলানোই কঠিন হয়ে পড়েছিল প্রতিপক্ষের জন্য। কিন্তু দুর্দান্ত আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও প্রথমার্ধের বিরতির আগে জালের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। গোল না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়েই প্রথমার্ধের খেলা শেষ করতে হয় তাদের।
গোলের অনেক সুযোগ তৈরি করেছিলেন রাকিব, জামাল ভূঁইয়া ও বিশ্বনাথরা। ম্যাচের ৫ মিনিটে ডান দিক থেকে রাকিব ক্রস বাড়িয়েছিলেন বিশ্বনাথের দিকে, কিন্তু ভুটান রক্ষণভাগের বাধায় বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি তিনি। এর কিছু সময় পর বক্সের মধ্যে বল পেয়ে জোরালো শট নিলেও গোল পাননি অধিনায়ক জামাল। ১৭ মিনিটে আরেকটি সম্ভাবনাময় মুহূর্তে রাকিবের ক্রসে বিশ্বনাথ হেড করলেও বল পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ২২ মিনিটে জামালের শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। ২৬ মিনিটে কর্নার থেকে ভুটানের গোলমুখে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হলেও গোল আসেনি। ৩৯ মিনিটে ডান দিক থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে শট নেন বিশ্বনাথ, কিন্তু বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। এরপর রাকিবের পাস থেকে সুযোগ তৈরি হলেও গোলরক্ষকের দক্ষতায় রক্ষা পায় ভুটান।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমেও আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখে বাংলাদেশ। তবে গোলের দেখা না পাওয়ায় একাদশে পরিবর্তন আনেন কোচ ডুলি। ৬৫ মিনিটে মাঠে নামানো হয় ইব্রাহিমকে। বদলি হিসেবে নামার মাত্র চার মিনিটের মাথায়, ৬৯ মিনিটে, দলকে বহুল কাঙ্ক্ষিত আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন তিনি। বক্সের মধ্যে শমিত সোমের হেডে বাড়ানো বল পেয়ে অত্যন্ত নিখুঁত শটে গোল করেন এই ফরোয়ার্ড। এর পরও ব্যবধান বাড়ানোর বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে আর গোল পায়নি দল। শেষ পর্যন্ত ইব্রাহিমের করা ওই এক গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন