নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
অনেকেই মনে করেন, নফল ইবাদত কেবল অতিরিক্ত কিছু আমল, যা না করলেও ফরজ তো আদায় হয়েই যায়! কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়। আল্লাহর বিশেষ ভালোবাসা ও নৈকট্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি হলো নফল ইবাদত। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলার ঘোষণা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। এমনকি অবশেষে আল্লাহ তাকে এমন প্রিয়পাত্র বানিয়ে নেন যে, তিনি নিজেই তার কান, চোখ, হাত ও পা হয়ে যান।
সাহাবায়ে কেরাম নফল ইবাদতের এই গভীর মর্যাদা ও গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। তাই তারা নিয়মিত আমলের মাধ্যমে নিজেদের জীবন আলোকিত করতেন।
তাদের সেই চমৎকার আমল ও প্রিয়নবী (সা.)-এর সুন্নাহর আলোকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রাতের নীরবতার ইবাদত বা তাহাজ্জুদ নামাজ। দিনের ব্যস্ততা শেষে রাতের শেষ ভাগে ঘুম থেকে উঠে মালিকের দরবারে দাঁড়িয়ে যাওয়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। প্রিয়নবী (সা.)-এর বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (را.) এই নামাজের প্রতি ছিলেন ভীষণ যত্নবান।
দিনের শুরুতে চাশত বা দোহার নামাজ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। সূর্য ওঠার কিছু সময় পর থেকে দুপুরের আগ পর্যন্ত আদায় করা হয় এই নামাজ। এটি রিজিক ও হৃদয়ে প্রশান্তি আনে। হজরত আবু হুরায়রা (را.) আমৃত্যু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অসিয়ত অনুযায়ী দুই রাকাত চাশত নামাজ আদায় অব্যাহত রেখেছিলেন।
রমজানের বাইরেও নফল রোজার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করা সাহাবিদের নিয়মিত অভ্যাস ছিল। হজরত আবু দারদা (را.)-কে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি মাসে অন্তত তিন দিন রোজা রাখার অসিয়ত করেছিলেন। এছাড়া আরাফা ও আশুরার মতো বিশেষ দিনগুলোতে নফল রোজা রাখার সওয়াব অনেক বেশি।
কুরআন তেলাওয়াতে হৃদয়ের প্রশান্তি লাভ করতেন সাহাবিরা। তারা প্রতিদিন তেলাওয়াটের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ঠিক করে নিতেন এবং তা নিয়মিত আদায় করতেন। অনেক সাহাবি প্রতি সাত দিনে একবার পুরো কুরআন খতম করতেন।
চলতি পথে, কাজের ফাঁকে বা অবসর সময়ে জিকিরের মাধ্যমে নিজেদের জিহ্বাকে সজীব রাখা ছিল সাহাবিদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রতিদিন একশত বার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি পাঠ করার মাধ্যমে গুনাহ মোচনের সুসংবাদ রয়েছে।
নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। একসঙ্গে অনেক আমল শুরু করে কিছুদিন পর তা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে অল্প হলেও নিয়মিত আমল করা আল্লাহর কাছে বেশি পছন্দনীয়। প্রিয়নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর কাছে সেই আমল সর্বাধিক প্রিয় যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা পরিমাণে কম হয়।
সাহাবিদের বর্ণাঢ্য ও আলোকময় জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। ফরজ ইবাদতগুলো নিখুঁতভাবে আদায় করার পাশাপাশি নিয়মিত নফল আমলগুলোর চর্চা করলে বান্দা তার রবের ভালোবাসার পরম ঠিকানায় পৌঁছাতে পারে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন