সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,

নীলফামারীতে আগাম শীতের বার্তা কুয়াশায় ঢাকছে মাঠ-ঘাট

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১০:১০ এএম

নীলফামারীতে আগাম শীতের বার্তা কুয়াশায় ঢাকছে মাঠ-ঘাট

অক্টোবরের শুরুতেই নীলফামারীর উত্তরের সীমান্তঘেঁষা ডিমলা উপজেলার প্রকৃতিতে আবহাওয়ার ধরনে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন ভোরে উপজেলার মাঠ-ঘাট, গ্রামীণ সড়ক, ফসলের জমি ও খোলা প্রান্তরে হালকা কুয়াশার চাদর দেখা যাচ্ছে। ঘাসের ওপর জমছে ভোরের শিশিরবিন্দু। দিনের বেলায় শরতের তীব্র রোদ ও স্বাভাবিক উষ্ণতা বহাল থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে বাতাসে শীতলতা বাড়তে শুরু করছে। ভোর ও রাতের এই হালকা ঠান্ডা এবং স্নিগ্ধ আমেজে জনপদে আগাম শীতের বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য ধীরে ধীরে কুয়াশার আবরণ কেটে যায় এবং চারপাশ স্বাভাবিক চেহারায় ফেরে। কুয়াশার কারণে ভোরের দিকে দূরের গাছপালা ও পথঘাট কিছুটা ঝাপসা দেখাচ্ছে। বিশেষ করে নদীঘেঁষা খোলা চর এলাকায় ভোরের বাতাসে শীতের অনুভূতি তুলনামূলক বেশি পাওয়া যাচ্ছে। দিনের প্রখর রোদ আর ভোর-রাতের ঠান্ডা বাতাসের এই বৈপরীত্যেই স্থানীয় মানুষ স্পষ্ট বুঝতে পারছেন ঋতু পরিবর্তনের গতি।

ডিমলা সদর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিল জানান, কয়েক দিন ধরে ভোরের দিকে বাইরে বের হলেই হালকা কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দিনের বেলা স্বাভাবিক গরম থাকলেও সন্ধ্যার পরপরই পরিবেশ বেশ ঠান্ডা হয়ে আসে এবং রাতের দিকে শীতের তীব্রতা আগের চেয়ে বেশি টের পাওয়া যায়। চরাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও কিছুটা ভিন্ন। চরের বাসিন্দা খালিলুর রহমান বলেন, নদীসংলগ্ন চর এলাকায় ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব সমতলের চেয়ে বেশি থাকে। সকালে মাঠে গেলে চারপাশ হালকা কুয়াশায় ঢাকা দেখা যায় এবং সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় হিমেল বাতাস, যা শীতের আমেজ তৈরি করছে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা হাসেম আলী উল্লেখ করেন, দিনের বেলায় এখনো গরম অনুভূত হলেও ভোর ও রাতের আবহাওয়া দ্রুত শীতল হচ্ছে। গত কয়েক দিনে আবহাওয়ার এই রদবদল বেশ চোখে পড়ার মতো এবং মনে হচ্ছে শীত খুব দ্রুত ঘনিয়ে আসছে। কৃষিকাজের ক্ষেত্রেও এই পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। উপজেলার কালিরডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হরিহর চন্দ্র রায় জানান, ভোরে মাঠে নামলে কুয়াশার পাশাপাশি ঠান্ডা বাতাস পাওয়া যায়। দিনের বেলা পুনরায় গরম অনুভূত হলেও আবহাওয়ার এই নাতিশীতোষ্ণ রূপ ভালোই লাগছে। ভোরবেলা মাঠে ফসল পরিচর্যা করতে নামলেই এখন হালকা শীতের ছোঁয়া অনুভূত হয়।

আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে ডিমলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুস সবুর মিয়া জানিয়েছেন, ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে ভোর ও রাতের দিকে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম অনুভূত হতে পারে। এই সময়ে পরিবেশে হালকা কুয়াশা ও ঘাসে শিশির দেখা দেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তবে দিনের তাপমাত্রা এখনো কিছুটা বেশি থাকায় একে এখনই পুরোপুরি শীতের সূচনা বলা চলে না।

কৃষিনির্ভর ডিমলা উপজেলায় বর্তমানে পুরোদমে চলছে বিভিন্ন রবি ও মৌসুমি ফসলের মাঠ পরিচর্যা। ভোরের কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের মধ্যেও কৃষকরা নিয়মিত মাঠে নেমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে সন্ধ্যার পর আবহাওয়া দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ জনপদে মানুষের দৈনন্দিন চলাফেরা ও পোশাকেও কিছুটা সতর্কতার ছাপ দেখা যাচ্ছে। দিনের রোদ আর ভোর-রাতের শিশির মিলিয়ে ডিমলার জনপদে শীতের পদধ্বনি এখন স্পষ্ট।