সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,

সবার জন্য মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১০:৫২ এএম

সবার জন্য মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

সবার জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিটি মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশসম্মত বাসস্থান গড়ে তোলা জরুরি। বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা তুলে ধরেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশেও দিনটি উদযাপনের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

নগর কেবল নাগরিক সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের বসবাসের এলাকা নয়। বিশ্বজুড়ে শহরগুলো এখন কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও নতুন উদ্ভাবনের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। এ কারণে একটি সুপরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ নিশ্চিত করাকে তিনি টেকসই অগ্রগতির ভিত্তি বলে মনে করেন। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নগর অঞ্চলগুলোতে প্রতিনিয়ত জনসংখ্যার ব্যাপক চাপ তৈরি হচ্ছে। এর পাশাপাশি যানজট, তীব্র পরিবেশ দূষণ এবং পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন বাসস্থানের অভাব নতুন নতুন সংকট সৃষ্টি করছে। এমন বাস্তবতায় এবারের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মত দেন তিনি।

মানুষের বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান মৌলিক প্রয়োজন হলো নিরাপদ, দূষণমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন। কিন্তু দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির উচ্চমূল্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাবে আবাসন সংকট দিন দিন প্রকট রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য বাসস্থানের সংস্থান করা সবচেয়ে বড় প্রতিকূলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবার জন্য পরিবেশবান্ধব আবাসনের বিকল্প নেই।

সুবিধাবঞ্চিতদের পুনর্বাসন ও নগর সমস্যা সমাধানে সরকারের একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি জানান, পিছিয়ে পড়া মানুষের আবাসন কর্মসূচি, জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো নির্মাণ, ভবন নির্মাণ বিধিমালার কঠোর প্রয়োগ, ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে কেবল সরকারের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। 

সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, গবেষক, পেশাজীবী এবং তরুণ প্রজন্মকে একযোগে কাজ করতে হবে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই নগরের বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব বাধা দূর করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি। বাণীর শেষে তিনি একটি মানবিক ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানিয়ে দিবসটির সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।