অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের সম্মানে ১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার গুণগত মানে নানা রূপান্তর ঘটলেও পরিবর্তনের এই যুগে এসেও শিক্ষকরা তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রাপ্তির চরম স্বল্পতা সত্ত্বেও পরবর্তী প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ব্রত থেকে পিছপা হননি তারা।
নেত্রকোনার পঞ্চাননপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নায়লা সারাফ এই নিবেদনের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানই এখন তার ধ্যান-জ্ঞান, যার ফলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের কাছেও তিনি অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছেন।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন নায়লা সারাফ। উচ্চশিক্ষা সমাপ্তির পর তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে লোভনীয় করপোরেট ও সরকারি ক্যারিয়ার ছেড়ে একসময়কার এই প্রকৌশলী এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান করছেন। শিক্ষকতা পেশার ভেতরেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন জীবনের পরম তৃপ্তি ও মানসিক শান্তি।
সব শিক্ষকের জীবনের পথচলা হয়তো নায়লা সারাফের মতো বহুমুখী অর্জনের পর বেছে নেওয়া নয়। তবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাওয়া শিক্ষকদের আত্মতৃপ্তি কেবল এক জায়গাতেই নিহিত, আর তা হলো একটি আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তোলার কাজে। পাঠদানের সীমানা পেরিয়ে অনেক শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে স্থায়ী ও শ্রদ্ধার আসন করে নেন।
মহান এই ব্রতে নিয়োজিত দেশের শিক্ষকদের একটি বড় অংশের দৈনন্দিন জীবন এখনো কাটছে নিদারুণ আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে। বিশেষ করে বেসরকারি ও প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বেতন-বৈষম্য এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতা শিক্ষকতা পেশার প্রধান সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি কাঙ্ক্ষিত জাতি গঠন এবং শিক্ষার টেকসই গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের পাশাপাশি তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন