সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,
বিশ্ব শিক্ষক দিবস

শিক্ষকতা উপায়হীন বিকল্প নয় বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

শিক্ষকতা উপায়হীন বিকল্প নয়  বিশ্ব শিক্ষক দিবসে তারেক রহমান

শিক্ষকরা আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে সম্মানীয়। কর্মজীবন কিংবা অবসর—যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন, সুমহান পেশার কারণে এই মর্যাদা তাদের প্রাপ্য। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য উঠে আসে।

পারিবারিক পাঠশালার গণ্ডি পেরোনোর পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর সামনে শিক্ষক-শিক্ষিকারাই আদর্শ রোল মডেল। তারা যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারেন, সেজন্য সরকার নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

নতুন সিলেবাস আসছে এ বছরই। সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে প্রথাগত শিক্ষার বাইরে কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞান এখন বিকল্পহীন। প্রধানমন্ত্রী জানান, মুখস্থবিদ্যার বদলে শিক্ষার্থীদের মনে ‍‍`কেন‍‍` এবং ‍‍`কীভাবে‍‍` প্রশ্ন জাগিয়ে তোলাই জরুরি। গত ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই স্কুলের সিলেবাস আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার। কৌতূহল থাকলে শিক্ষার্থী নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে ওঠে। তাই শিখন ও শিক্ষণ পদ্ধতির কৌশল পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এবার শিখন কৌশল হিসেবে ‍‍`আনন্দময় শিক্ষা‍‍` বা লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস চালু হচ্ছে। প্রথম ধাপে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে এই নতুন বই তুলে দিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পর্যায়ক্রমে অন্য ক্লাসেও তা দেওয়া হবে।

এদিকে শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে বিপুল সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জ্ঞান অর্জনের সুযোগকে অবারিত করেছে। সার্টিফিকেট-নির্ভর জ্ঞানের বদলে কারিগরি জ্ঞান অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি সামলাতে টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোর আধুনিকায়ন জরুরি। দেশের ইতিহাসে এবার জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান জানান, কোনো শিশু যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় এবং মাঝপথে ঝরে পড়লেও কাউকে যেন বেকার থাকতে না হয়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে এই বাজেট আরও বাড়বে।

মাধ্যমিক পর্যায়ে দেশের প্রায় ২১ হাজার প্রতিষ্ঠান ও তিন লাখের বেশি শিক্ষক কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন। এর বড় অংশই বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত। শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য দূর করতে দক্ষ শিক্ষক ও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা নিশ্চিত করার নানামুখী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সমান সুযোগ, মানসম্মত শিক্ষা এবং বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার—এটাই শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের মূল দৃষ্টিভঙ্গি। শুধু কর্মসংস্থান নয়, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য চরিত্র ও নৈতিকতা গঠন। জ্ঞান যদি নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত না হয়, তবে তা সমাজের কল্যাণের বদলে অকল্যাণ ডেকে আনতে পারে। তারেক রহমান বলেন, সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা ও শৃঙ্খলা আমাদের শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে শিক্ষকরাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।

শিক্ষকতা পেশা কখনোই কোনো ‍‍`উপায়হীন বিকল্প‍‍` বা সাধারণ চাকরির মতো হতে পারে না। সবচেয়ে মেধাবী মানুষটি যেন কর্মজীবনে শিক্ষকতাকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নেন, সেভাবেই শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। স্কুল, মাদ্রাসা, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই পেশাকে মর্যাদাপূর্ণ করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও বাড়ে।