সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,

কিরণ রাওয়ের চোখে নতুন প্রজন্ম সম্পর্কের ধরন ও স্বাধীনতার গল্প

বিনোদন ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১০:১৫ এএম

কিরণ রাওয়ের চোখে নতুন প্রজন্ম সম্পর্কের ধরন ও স্বাধীনতার গল্প

ছবি: সংগৃহীত

সময়ের পরিবর্তনের সাথে মানুষের প্রেম, সম্পর্ক এবং অনুভূতি প্রকাশের ধরনে বড় ধরনের রূপান্তর এসেছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগের যুগের বহু সামাজিক বিধিনিষেধ এখন আর আগের মতো কার্যকর নেই। বিয়ের আগে মানসিক কিংবা শারীরিক ঘনিষ্ঠতাকে আগের মতো অস্বাভাবিক চোখে না দেখে সম্পর্কের এই পরিবর্তনকে সময়ের স্বাভাবিক বিবর্তন হিসেবেই মূল্যায়ন করছেন ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক কিরণ রাও।

আসন্ন চলচ্চিত্র লাস্ট স্টোরিজ ৩-এর প্রচারণামূলক এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সমকালীন প্রজন্মের প্রেম, যৌনতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের মনস্তত্ত্ব নিয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেন কিরণ। তার পরিচালিত গল্পে তরুণদের সম্পর্কের যে পরিবর্তিত রূপ উঠে এসেছে, সেই সূত্রেই তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল বর্তমান প্রজন্ম প্রেমের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হালকা মনোভাবাপন্ন নাকি তুলনামূলক বেশি স্বাধীন। কিরণ অবশ্য নতুন প্রজন্মকে খামখেয়ালি বা ভাসা-ভাসা সম্পর্কের অনুসারী বলতে নারাজ। তিনি তাদের মূলত স্বাধীনচেতা হিসেবেই বিবেচনা করেন।

কিরণ জানান, তাদের প্রজন্মের তুলনায় বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের মানসিক স্বাধীনতা অনেক বেশি। অনুভূতি প্রকাশ ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের ধরনে এখন স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে এবং পারিপার্শ্বিক পৃথিবীও আগের চেয়ে অনেকটা বদলে গেছে। নতুন গল্পের মাধ্যমে তিনি আধুনিক সময়ের সেই মানসিক পটপরিবর্তনটিকেই পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।

আধুনিক সম্পর্কের জটিল সমীকরণ নিয়েও বিশ্লেষণ করেন তিনি। দুজন মানুষ পরস্পরের প্রতি তীব্র আকর্ষণ অনুভব করতে পারেন, অথচ সেই টানকে তারা প্রচলিত কোনো সামাজিক সম্পর্কের কাঠামোর ভেতর বাঁধতে চান না। এই অবস্থান থেকেই অনেক সময় অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্ম হয়। তিনি উল্লেখ করেন, দুজন তরুণ-তরুণী পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট হয়েও কোনো সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ না থাকলে তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো নাটকীয় মোড় নেয়। আর সেই অনিশ্চিত বাস্তবতাই আধুনিক জীবনের সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক দিক।

নিজের বেড়ে ওঠার সময়ের সাথে বর্তমান সমাজের পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেন কিরণ রাও। আগে সমাজ কেবল নির্দিষ্ট কিছু সম্পর্কের ছাঁচকেই স্বীকৃতি দিত। বিয়ের আগে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা যেমন সামাজিকভাবে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল, তেমনি বিয়ের পর সঙ্গীর বাইরে অন্য কারও সঙ্গে মানসিক নৈকট্য গড়ে ওঠাকেও অপরাধের দৃষ্টিতে দেখা হতো। বর্তমান সমাজে মানুষের চিন্তাভাবনা সেই রক্ষণশীল গণ্ডি অতিক্রম করেছে। সম্পর্কের এই সমীকরণগুলোকে কেবল পুরোনো নৈতিকতার মাপকাঠিতে না মেপে সময়ের স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবে গ্রহণ করার তাগিদ দেন এই নির্মাতা।