সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় জ্বালানি তেলের নতুন দর কার্যকর হওয়াকে কেন্দ্র করে মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টারে গ্রাহকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় এক কেমিস্টসহ দুইজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনটির সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার ঘোষিত নতুন জ্বালানি তেলের মূল্য রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকরের কথা ছিল। ঘোষণার পরপরই রাত থেকেই ফিলিং স্টেশনটিতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। কিন্তু রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল থাকা সত্ত্বেও ডিজিটাল মিটার বন্ধ করে তেল বিক্রি স্থগিত করেন কর্মচারীরা। ঘটনাস্থলে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের দাবি, বর্ধিত দামে বিক্রির উদ্দেশ্যেই পূর্বনির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা আগে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রাত ১২টা বাজার সাথে সাথে পাম্পের স্বত্বাধিকারী শাহ আলম সরবরাহ যন্ত্রে নতুন দর নির্ধারণ করতে শুরু করেন। এ সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা গ্রাহকরা আগের নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি সরবরাহের দাবি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পাম্প মালিক ক্যাশ কাউন্টার থেকে লোহার রড এনে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্তের অতর্কিত রডের আঘাতে আব্দুল কাদের নামের এক কেমিস্ট এবং মাহবুবুর রহমান (২৭) নামের এক গ্রাহক গুরুতর জখম হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে অবহিত হয়ে ডিমলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ডিমলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী জানান, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফিলিং সেন্টারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে গ্রাহকদের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টারের মালিক শাহ আলম। তার দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহে কারিগরি জটিলতা দেখা দেওয়ায় সাময়িকভাবে জ্বালানি বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। উল্টো গ্রাহকরাই প্রথমে কর্মচারীদের ওপর চড়াও হন বলে দাবি করেন তিনি। পাম্পের বর্তমান মজুদ সম্পর্কে শাহ আলম জানান, তার স্টেশনে আগের কেনা মূল্যের ১০ হাজার ৪৯৭ লিটার পেট্রোল, ১০ হাজার ৩৮০ লিটার অকটেন এবং প্রায় ১১ হাজার লিটার ডিজেল জমা রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন