অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে সরকারি নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া প্রকল্প ঋণ থেকে আসবে চার হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে এক হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১০টি সম্পূর্ণ নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা।
অনুমোদিত তালিকার মধ্যে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনে। এতে ব্যয় এক হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট সাত হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল তিন হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনে চার হাজার ৪১৮ কোটি ৫০ লাখ এবং দ্বিতীয় সংশোধনে তা বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৭২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। নতুন করে ব্যয় বাড়ার পর পুরো অর্থই সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে।
গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় বরাদ্দ পেয়েছে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলা। এই তিন জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে তিন হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হবে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন মেয়াদে। রেলওয়ের সেবার মান বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক ইঞ্জিন সংগ্রহে দুই হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ এক হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এগুলো কেনা হবে।
জ্বালানি খাতে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে দুই হাজার ৪৯৮ কোটি সাত লাখ ৯৩ হাজার টাকার অনুমোদন মিলেছে। এই প্রকল্পে ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে দুই হাজার ১২৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে যোগ হবে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে কেন্দ্রটি প্রস্তুত করার লক্ষ্য রয়েছে।
নগর উন্নয়নে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের এক থেকে আট নম্বর জোনের রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণে অনুমোদন পেয়েছে দুই হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার প্রকল্প। এতে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দুই হাজার ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব খাত থেকে ৩৮৮ কোটি চার লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এর কাজ।
একই মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থায়ন ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং বাকি ২৩৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা করপোরেশন বহন করবে।
উত্তরাঞ্চলের রংপুর সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে এক হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ তিন হাজার টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি তহবিল থেকে এক হাজার ১২১ কোটি ৯৫ লাখ ৩২ হাজার এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৪৮০ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এছাড়া একই নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার আরেকটি পৃথক প্রকল্প পাস হয়েছে, যাতে সরকারি অংশ ১৬৮ কোটি ৩৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা এবং নগর কর্তৃপক্ষের অংশ ৪২ কোটি নয় লাখ ৮৬ হাজার টাকা।
নৌপরিবহন খাতে বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন পেয়েছে। ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা বৃদ্ধির পর এর মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এতে সরকারি অর্থায়ন দুই হাজার ৬০ কোটি ৪৪ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১০৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ফ্রান্সে ক্রয় করা চ্যান্সারি ভবন আধুনিকায়ন ও সংস্কারে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে প্যারিসের এই ভবনটির কাজ শেষ করা হবে। উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। শতভাগ সরকারি অর্থায়নের এই প্রকল্পটি ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে।
পার্বত্য অঞ্চলের থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনে আরও ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা বরাদ্দ বাড়িয়ে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২৬ কোটি ১২ লাখ ৩২ হাজার টাকা। এতে চতুর্থবারের মতো মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। নারীদের দক্ষ জনশক্তি ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সমবায়ের মাধ্যমে ১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারি ব্যয়ে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এটি পরিচালিত হবে। এর বাইরে পরিকল্পনামন্ত্রীর মাধ্যমে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার নিচের প্রকল্প হিসেবে জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল এবং খাঁড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন