অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
ফ্রান্সের চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভকে গণঅভিবাসন ও মুসলমানদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শিক্ষাঙ্গনের বাজেট সংকট ঘিরে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তাঁর এমন দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার ফ্রান্সজুড়ে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন প্রায় দুই লাখ ৬৬ হাজার মানুষ।
এর মধ্যে কেবল রাজধানী প্যারিসেই প্রায় ৫৬ হাজার বিক্ষোভকারী রাজপথে নামেন। শিক্ষা খাতে সরকারি বাজেট বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত অচলাবস্থা নিরসনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ক্লাস বর্জন ও স্কুল অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। প্যারিসে এই কর্মসূচির একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।
সংঘর্ষের জেরে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রায় ৫০০ জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ছয় হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক। কিশোর আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস ও অন্যান্য দাঙ্গা দমন সরঞ্জাম ব্যবহারের ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সোমবার পুলিশের ছোড়া স্টান গ্রেনেডের আঘাতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবরে মাঠের পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, পরিস্থিতি অনুযায়ী তাদের পদক্ষেপ ছিল সংযত এবং বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠার পরেই কেবল হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু শিক্ষার্থীদের দাবি শুনে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশেপাশে যেকোনো ধরনের সহিংসতার কঠোর নিন্দা করেছেন।
সামনে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থাকায় শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন এখন ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান স্পর্শকাতর বিষয়ে রূপ নিয়েছে। শিক্ষা খাতের সংকট সমাধানের দাবির পাশাপাশি লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, দারিদ্র্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়েও সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন