বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
রোনালদোর বিস্ফোরক বিবৃতি

মেসির বিদায়ের দিনে বিস্ফোরক বিবৃতি দিলেন রোনালদো

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১১:০১ এএম

মেসির বিদায়ের দিনে বিস্ফোরক বিবৃতি দিলেন রোনালদো

ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের দিনেই পর্তুগাল জাতীয় দলের ভেতরকার নাটকীয় সংকট সামনে এনে এক দীর্ঘ ও বিস্ফোরক বিবৃতি প্রকাশ করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে আকস্মিক চলে যাওয়ার নেপথ্য কারণ খোলাসা করে তিনি দলের প্রধান কোচ জর্জ জেসাসের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা না রাখার অভিযোগ তুলেছেন। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত প্রায় দুই হাজার শব্দের এই বিশদ বিবৃতিতে রোনালদো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য নিজের ভুলের ক্ষমা চেয়েছেন। তবে একই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে পুরো ঘটনার কার্যকারণ তুলে ধরেন।

বিবৃতির শুরুতেই জাতীয় দলের সাম্প্রতিক অনুশীলনে আসলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা তুলে ধরেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপ আসর শেষ হওয়ার পর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাকে জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি বর্তমান কোচ জর্জ জেসাসকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারেও তার মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। রোনালদো তখন জেসাসকে একজন সঠিক পছন্দ হিসেবে ফেডারেশনকে জানিয়েছিলেন।

গত আগস্ট মাসে কোচের সঙ্গে পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা হয় রোনালদোর। তখন কোচ তাকে জানান যে তিনি ভবিষ্যৎ প্রকল্পের একটি মৌলিক অংশ হিসেবে থাকবেন এবং প্রথম ও শেষ ম্যাচ দুটো খেলবেন। তবে কোচ তাকে দেশের বাইরের বা প্রতিপক্ষের মাঠের ম্যাচগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। রোনালদো সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে জানান, একজন অধিনায়ক কখনো ঘরে বসে থাকতে পারেন না। এই কথোপকথনের সময় দলের কর্মকর্তা কুতিনহো উপস্থিত ছিলেন।

সংকটের সূত্রপাত ঘটে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দিন। ম্যাচের আগে কোচ রোনালদোকে জিজ্ঞেস করেন যে তিনি মাত্র ৩০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত কি না। এটি পূর্বের সমঝোতার অংশ না হলেও দলের স্বার্থে তিনি রাজি হন। ম্যাচের প্রথমার্ধের বিরতির পর থেকে রোনালদো দীর্ঘক্ষণ ওয়ার্ম-আপ বা শরীর গরম করার অনুশীলন চালান। কিন্তু পুরো খেলায় তাকে আর এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামানো হয়নি। ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ হয়ে সমর্থকদের অভিবাদন না জানিয়ে মাঠ ছাড়ার ঘটনাটিকে নিজের ভুল স্বীকার করে বিবৃতিতে ক্ষমা চান রোনালদো। এই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পর কুতিনহোর উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের মধ্যে আরেকটি সমঝোতা হয়।

সেখানে কথা ছিল, সংবাদ সম্মেলনে কোচ সত্য ঘটনাটি দেশবাসীকে জানাবেন। পুরো বিষয়টি কোচের কৌশলগত পরিকল্পনা ছিল, রোনালদো নিজে কোনো বাড়তি খেলার সময় চাননি এবং মাঠে না নামিয়ে দীর্ঘক্ষণ ওয়ার্ম-আপ করানোটা কোচের ভুল ছিল—এই বিষয়গুলো লিখিত এক নথিতে উভয়ে স্বাক্ষর করে অনুমোদন দেন। এমনকি সংবাদ সম্মেলনের দিন সকালেও ফেডারেশন সভাপতি ও প্রধান কোচকে রোনালদো পরিষ্কার জানিয়েছিলেন, তারা যদি তাকে দলে না চান তবে তা যেন সরাসরি বলে দেন। সভাপতি ও কোচ দুজনেই রোনালদোকে দলে পাওয়ার জোরালো আগ্রহের কথা নিশ্চিত করেন।

কিন্তু গণমাধ্যমের সামনে এসে কোচ পুরো সমঝোতা ভঙ্গ করেন। সংবাদ সম্মেলনে কোচের দেওয়া বক্তব্য পূর্বের লিখিত অঙ্গীকারের ধারেকাছেও ছিল না। উল্টো রোনালদোর বিরুদ্ধে এমন কিছু কঠোর কথা বলা হয়, যা পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে নিয়ে যায়। কোচ দ্বিতীয়বারের মতো নিজের দেওয়া কথা ভাঙায় ক্ষুব্ধ হন রোনালদো। বিবৃতিতে রোনালদো উল্লেখ করেন, গত প্রায় ২৫ বছরের দীর্ঘ ফুটবল জীবনে তিনি কখনো কোনো কোচের ট্যাকটিক্যাল বা কৌশলগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেননি। কিন্তু যখন সরাসরি করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়, তখন সেই পরিবেশে থাকা একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদের জন্য মর্যাদাহানিকর।

ক্যাম্প ছেড়ে চলে আসার জন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছে আন্তরিক ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। এই সিদ্ধান্তের পুরো ব্যক্তিগত দায় নিজের কাঁধে নিয়ে রোনালদো বলেন, জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের উচিত দলনেতা হিসেবে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে কোনো ছাড় না দিয়ে কঠোর শাস্তি দেওয়া। মেসির বিদায়ের দিনে নিজের বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে চলমান গুঞ্জনও উড়িয়ে দিয়েছেন রোনালদো।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শৈশবে চরম অনাহারে থাকার দিনগুলোতেই তিনি শিখেছেন যে দুনিয়ায় কেউ কাউকে বিনামূল্যে কিছু দেয় না। তার বাবার মৃত্যুর দিনও জাতীয় দলের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি দলের সঙ্গেই ছিলেন। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শারীরিক সক্ষমতা বহাল থাকলে পর্তুগালের লাল-সবুজ জার্সিতে জয় ছিনিয়ে আনতে এবং মাঠে লড়াই করতে বরাবরের মতোই তিনি প্রস্তুত থাকবেন।