বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,

সৌদি বিমানবন্দর ও ঘাঁটিতে হুথিদের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১২:০০ পিএম

সৌদি বিমানবন্দর ও ঘাঁটিতে হুথিদের হামলা

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একযোগে ড্রোন ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক সামরিক বিবৃতিতে হুথিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এই হামলার দায় নিশ্চিত করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট এই আঘাতের ফলে বিমানবন্দরটিতে সাধারণ বিমান চলাচলে তীব্র বিঘ্ন ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।

একই সঙ্গে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের প্রধান সামরিক বিমান ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইয়াহিয়া সারি উল্লেখ করেন, এই সমন্বিত আঘাতের কারণে আভা বিমানবন্দরের উড্ডয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং সামরিক ঘাঁটির উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

আরেকটি পৃথক বিবৃতিতে হুথি মুখপাত্র জানান, সৌদি আরবের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেনা ক্যাম্পেও হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু করা এই স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে জিজানের দাগারির ও আল-মাওসিম সামরিক ক্যাম্প এবং আসিরের আকিফাহ ক্যাম্প। এসব লক্ষ্যস্থলেও একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আক্রমণাত্মক ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে গোষ্ঠীটি দাবি করে। হুথিদের এই দাবি ও হামলার বিপরীতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বুধবার জানিয়েছে, তারা রাজধানী রিয়াদের আকাশসীমায় হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আসার পথেই সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে সৌদিতে চালানো এই আক্রমণ ছাড়াও ইয়েমেনের ভেতরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। তবে এই হামলায় কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র দুটির মধ্যে একটি বদর সেন্টারে অবস্থানরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের একটি ইউনিটের ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। তবে এই আঘাতের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিষয়ে এখনো কোনো নিরপেক্ষ ও চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। সামরিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এডেনের পার্শ্ববর্তী হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ছোড়া হয়েছিল।