অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে স্বামী আব্দুল জলিলের দাফন সম্পন্ন হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় মারা গেছেন স্ত্রী আমিনা বেগম। একই দিনে বয়োবৃদ্ধ স্বামী ও স্ত্রীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের সাহাবাজ মতিনবাজার এলাকায় হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর ৬০ বছর বয়সী আমিনা বেগম স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এর ঠিক আড়াই ঘণ্টা পর তার ৭০ বছর বয়সী স্বামী আব্দুল জলিলও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুজনকেই দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসা শেষে জলিলকে বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আব্দুল জলিল।
পরদিন মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে আব্দুল জলিলের দাফন সম্পন্ন করা হয়। বাবাকে দাফন করে স্বজনেরা বাড়ি ফিরে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিকেল ৫টার দিকে না ফেরার দেশে চলে যান স্ত্রী আমিনা বেগমও। পরে বাদ মাগরিব দ্বিতীয় দফায় জানাজা শেষে তাকেও স্বামীর কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
মা-বাবার এমন বিরল বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সন্তান আলম মিয়া। তিনি জানান, তার বাবা ও মায়ের মধ্যকার দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ ছিল অত্যন্ত গভীর। সেই গভীর ভালোবাসার কারণেই হয়তো তারা প্রায় একই সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত একই দিনেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন। আলম মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, বাবাকে বিকেল ৪টায় দাফন করে বাড়িতে আসার পরপরই ৫টার দিকে মা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। একটি দিনের ব্যবধানেই তারা সবাই এতিম হয়ে গেলেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম। তিনি জানান, একই দিনে মাত্র কিছু সময়ের ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর এমন ঘটনা বাস্তবে একেবারেই বিরল। পুরো পরিবারের জন্য এটি চরম বেদনার একটি মুহূর্ত। নিহত দম্পতি তার ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন উল্লেখ করে তিনি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন