বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা

৩০ ব্যাংকের এটিএম ও কার্ড সেবা সচল হচ্ছে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

৩০ ব্যাংকের এটিএম ও কার্ড সেবা সচল হচ্ছে

কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত জটিলতা কেটে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা দেশের ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এটিএম বুথ, কার্ড, পয়েন্ট অব সেল বা পিওএস, এনপিএসবি, ই-কমার্স ও কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেন সেবা আবারও চালু হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর গ্রাহকেরা স্বাভাবিকভাবে কার্ডের মাধ্যমে টাকা তোলা ও অনলাইন কেনাকাটাসহ অন্যান্য ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করতে পারছেন। কয়েকটি ব্যাংক ইতিমধ্যে তাদের গ্রাহকদের মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে সেবা পুরোদমে সচল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

ব্যাংক এশিয়া তাদের বার্তায় জানিয়েছে, তাদের এটিএম বুথ, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, পিওএস টার্মিনাল, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ, ই-কমার্স ও কিউআর লেনদেন সেবা পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, সিস্টেম মাইগ্রেশন এবং সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে গত ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ৩০টি ব্যাংকের কার্ড ও এটিএম সংক্রান্ত সেবা বন্ধ হয়ে যায়। এতে এটিএম বুথ থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন, বিপণিবিতানে কেনাকাটা এবং তাৎক্ষণিক ডিজিটাল লেনদেন করতে গিয়ে দেশজুড়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন সাধারণ গ্রাহকেরা।

গ্রাহক দুর্ভোগ নিরসনে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে মঙ্গলবার রাতে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের মূল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসির শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তলব করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ইলেকট্রনিক সুইচিং কার্যক্রমসহ কার্ড সংক্রান্ত সব ধরনের স্থগিত সেবা জরুরি ভিত্তিতে চালুর কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই জরুরি নির্দেশনার পরপরই কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের কারিগরি ত্রুটি মেরামতের কাজ শেষ হয় এবং সেবা সচল করা হয়। এর প্রভাবে মধ্যরাত থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কার্ড ও অনলাইন পেমেন্ট চ্যানেলগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরে।

রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে একযোগে যে ৩০টি ব্যাংকের বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা বিঘ্নিত হয়েছিল, সেগুলোর তালিকায় রয়েছে—অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ, কমিউনিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক এবং উরি ব্যাংক বাংলাদেশ।

পূর্বে ব্যাংকগুলো জানিয়েছিল যে ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু ডিজিটাল সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে নির্ধারিত সময়ের আগেই সেবা সচল করা সম্ভব হলো। তবে কিউ-ক্যাশ প্ল্যাটফর্মে বিঘ্ন ঘটলেও পুরো দেশের সামগ্রিক আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা কিন্তু বন্ধ ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ বা এনপিএসবির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিকাশ ও নগদসহ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক লেনদেন পুরোপুরি সচল ছিল।

একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস, বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক এবং তাৎক্ষণিক বড় অঙ্কের লেনদেনের আরটিজিএস সেবা কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে চলেছে। ফলে ব্যাংকিং খাতের সার্বিক আন্তঃব্যাংক লেনদেন কখনোই স্থবির হয়নি। সংকটকালীন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রাহকদের নিজস্ব ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে চলার এবং বিকল্প পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিল।