বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা

অটোরিকশাই কি ঢাকার যানজটের আসল কারণ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

অটোরিকশাই কি ঢাকার যানজটের আসল কারণ

রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা না থাকায় রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, খিলগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুর থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় সোমবার সকাল থেকেই ছিল লক্ষণীয় ফাঁকা পরিবেশ। সড়ক ফাঁকা দেখে সাধারণ নগরবাসীর মনে এই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে যে ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজটের একটি বড় অংশের দায় আসলে এই অটোরিকশার ওপরই বর্তায় কি না।

একই সময়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কয়েক হাজার অটোরিকশা চালক। সেখানে তারা অভিযোগ করেন, পুলিশি অভিযানের নামে তাদের নিয়মিত হয়রানি করা হচ্ছে, আটক যানবাহন ডাম্পিংয়ে পাঠানো হচ্ছে এবং চার্জিং পয়েন্টগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। আন্দোলনরত চালকদের স্পষ্ট দাবি, যেখানে সড়ক রয়েছে, সেখানেই অটোরিকশা চলার অনুমতি দিতে হবে।

তবে রাজধানীর মূল সড়কগুলোর বর্তমান অবকাঠামো কেবল ধীরগতির অটোরিকশার উপযোগী করে নির্মিত হয়নি। ধীরগতির এই বাহনগুলো যখন প্রধান সড়কে উঠে আসে, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লেনের নিয়ম মানা হয় না। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানো এবং হঠাৎ মোড় ঘোরার কারণে পেছনে থাকা বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এর ফলে এমন সাধারণ মানুষকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়, যাদের দৈনন্দিন যাতায়াতে অটোরিকশার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

সমস্যা কেবল যানজটেই সীমাবদ্ধ নয়। বেশিরভাগ অটোরিকশা চালকের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কিংবা বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। ফলে রাজস্ব বা ট্রাফিক নজরদারির বাইরে থাকা এসব চালকের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ধারণা অত্যন্ত সীমিত, যা সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর দুর্ঘটনা ঘটলে তার সম্পূর্ণ আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতির বোঝা সাধারণ যাত্রীদেরই বহন করতে হয়।

এই পরিবহন ব্যবস্থার পেছনে প্রভাবশালী একটি স্বার্থান্বেষী মহলের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। বহু চালক মূলত গ্যারেজ মালিকদের কাছ থেকে দৈনিক নির্দিষ্ট জমার চুক্তিতে গাড়ি ভাড়া নিয়ে রাস্তায় নামেন। অটোরিকশা নামানো থেকে শুরু করে অবৈধ চার্জিং ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের নেপথ্যে রয়েছে শক্তিশালী চক্র। ফলে অর্জিত মুনাফার বড় অংশ চলে যায় ওপরের মহলে, অথচ সড়ক বা আইন ভাঙার সমস্ত দায়ভার এসে পড়ে প্রান্তিক চালকদের ওপর।

চালকদের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, আটক করা অটোরিকশা ছাড়িয়ে নিতে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা অর্থ গুনতে হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, কেবল চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে বা জরিমানা আদায় করে এই জটিল সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিপুল জনগোষ্ঠীর রুটি-রুজি।

নগর বিশ্লেষকদের মতে, সমাধান অটোরিকশাকে পুরোপুরি উচ্ছেদ করা কিংবা তাদের অবাধ নিয়ন্ত্রণহীন ছেড়ে দেওয়া—কোনোটিই নয়। এর জন্য প্রয়োজন বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধন, চালকদের বৈধ লাইসেন্স প্রদান এবং নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করা। প্রধান সড়ক ও দূরপাল্লার আন্তঃজেলা রুটে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়কগুলোতে সুনির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে চলাচলের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রয়োজন বৈধ ও নিরাপদ রিচার্জিং অবকাঠামো তৈরি। চালকের জীবিকার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের পথ সুগম রাখাই এখন প্রধান দাবি।