বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,
সড়ক নিরাপত্তা

বেপরোয়া অটোরিকশার ধাক্কায় পঙ্গুত্ব বরণ হাসপাতালজুড়ে বাড়ছে কান্না

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১০:০১ এএম

বেপরোয়া অটোরিকশার ধাক্কায় পঙ্গুত্ব বরণ হাসপাতালজুড়ে বাড়ছে কান্না

ছবি: সংগৃহীত

একটি অনিয়ন্ত্রিত যান আর কয়েক সেকেন্ডের বেপরোয়া গতি নিমেষেই তছনছ করে দিচ্ছে একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অননুমোদিত ও বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ পর্যন্ত নানা বয়সের মানুষ স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। সরকারি পঙ্গু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রতিনিয়ত বাড়ছে অঙ্গ হারানো এসব মানুষের আহাজারি।

এমনই এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন ৭৬ বছর বয়সী বৃদ্ধ রওশন আলী। জীবনের এই পর্যায়ে এসে যেখানে পরিবারের নির্ভরতা হওয়ার কথা ছিল, সেখানে অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশার আঘাতে তিনি এখন পুরোপুরি পরনির্ভরশীল।

চিকিৎসকদের চেষ্টায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও ডান পা কেটে ফেলতে হয়েছে। জমানো সব সঞ্চয় চিকিৎসার পেছনে শেষ করে আজ তিনি নিঃস্ব।

একসময় তিনি সফল ব্যবসায়ী ছিলেন।

আক্ষেপ নিয়ে রওশন আলী বলেন, এই দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে আমার সব টাকা-পয়সা শেষ হয়ে গেছে। এখন আমি একপ্রকার পথের ভিখারি। আপনারা যদি এই বেপরোয়া অটোরিকশা বাতিল করেন, তবে আর দশটা মানুষ বেঁচে যাবে।

হাসপাতালটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঝুলছে এমন আরও অসংখ্য ট্র্যাজেডি। সেখানে চিকিৎসাধীন পাঁচ বছরের শিশু আবদুল্লাহ ফাহাদের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

হাতে খাবার কেনার টাকা নিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় বেপরোয়া একটি অটোরিকশা তাকে পিষে দেয়। শিশুটির বাবার চোখে এখনো জল। তিনি জানান, পকেটে মাত্র ১০ টাকা নিয়ে দোকানে যাওয়ার পথেই অটোরিকশাটি তার সন্তানকে পিষে দেয়। শরীরের তীব্র যন্ত্রণায় এখন হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে শিশুটি।

একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তরুণ মাসুদ রানা। নতুন চাকরির সন্ধানে সাভারে যাওয়ার পথে একটি নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা তাকে রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটি ও দেয়ালের মাঝে পিষে ফেলে।

আহত মাসুদ জানান, বাহনটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে সরাসরি দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে। এ পর্যন্ত চিকিৎসার পেছনে ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়ে গেছে, কিন্তু শারীরিক উন্নতি হচ্ছে না। তার কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে দৈনন্দিন আয়ও।

একটি সড়ক দুর্ঘটনা কেবল একজন ব্যক্তির শরীরেই আঘাত হানে না, বরং পুরো পরিবারকে ঠেলে দেয় এক অনিশ্চিত অন্ধকারে। যোগাযোগ ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানান, একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি পঙ্গু হয়ে পড়লে পরিবারের চাকা থমকে যায় এবং চিকিৎসার আকাশছোঁয়া খরচ মেটাতে গিয়ে পরিবারগুলো এক লহমায় নিঃস্ব হয়ে পড়ে।

অনিয়ন্ত্রিত ও অনুমোদনহীন এসব যানের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সড়কে অঙ্গহানি ও মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।