বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
যশোরের আখ

আখ চাষ: যশোরে এবার ২২ কোটি টাকা বেচাকেনার প্রত্যাশা, হাসছেন কৃষকরা

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

আখ চাষ: যশোরে এবার ২২ কোটি টাকা বেচাকেনার প্রত্যাশা, হাসছেন কৃষকরা

যশোরে এবার আখ চাষে ২২ কোটি টাকার বেচাকেনার প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা। চলতি বছর জেলায় প্রায় ২২০ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা—উৎপাদন হবে ২২ হাজার টন। এখানকার জমি উঁচু ও তুলনামূলক কম উর্বর হওয়ায় আখের ফলন অন্য ফসলের চেয়ে ভালো হয়। পাশাপাশি আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবং উৎপাদিত আখ অতিরিক্ত মিষ্টি ও লম্বা হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও ব্যাপক। ফলে কৃষকরা গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি পিস আখে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম পাচ্ছেন। ভালো ফলন ও বাড়তি দামে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার চাষি মশিয়ার রহমান ১২ বছর বয়স থেকেই আখের মাঠে কাজ করছেন। এ বছর তিনি ৮ কাঠা জমিতে আখ চাষ করেছেন। এতে তাঁর মোট খরচ হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়ায় তিনি দেড় লাখ টাকার আখ বিক্রির আশা করছেন। তার মতোই এলাকার অন্য চাষিরাও লাভের মুখ দেখছেন।

তবে এই লাভের উল্টো পিঠে আছে সংকটের চিত্রও। রাসায়নিক সারের তীব্র সংকট এবং দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক কৃষকই বিপাকে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ এতটা বেড়েছে যে, বাজারে বেশি দামে আখ বিক্রি করেও অনেকের প্রত্যাশিত মুনাফা ঘরে তোলা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। শহরের খালধার মোড়ের আখের হাটে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার পিস আখ ওঠে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা।

বর্তমানে এই হাটে ১০০ পিস আখ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায়। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর এসব আখ চলে যাচ্ছে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর ১০০ পিস আখ কেনা হয়েছিল ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। কিন্তু এ বছর তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। গাড়িভাড়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি পিস আখে ২ থেকে ৩ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আখ চাষকে আরও লাভজনক করতে কৃষকদের সাথি ফসল চাষের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দিচ্ছে।

একই জমিতে প্রতি বছর আখ না লাগিয়ে ‘ক্রপ রোটেশন’ বা শস্য পর্যায়ের মাধ্যমে এক-দুই বছর পর পর আখ চাষের পরামর্শ দিচ্ছে তারা। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, সবার সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো গেলে এই আখের মাধ্যমেই বদলে যেতে পারে ওই অঞ্চলের চাষিদের ভাগ্য।