বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
মার্চ ফর ইনসাফ

হাদী হত্যার বিচার চেয়ে বাংলাবান্ধা থেকে মার্চ ফর ইনসাফ শুরু ইনকিলাব মঞ্চের

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০১:১৩ পিএম

হাদী হত্যার বিচার চেয়ে বাংলাবান্ধা থেকে মার্চ ফর ইনসাফ শুরু ইনকিলাব মঞ্চের

ছবি: দিনাজপুর টিভি

শহীদ ওসমান বিন হাদী হত্যার বিচারে দীর্ঘসূত্রতা ও তদন্ত বারবার পেছানোর প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন করাসহ তিন দফা দাবিতে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। বুধবার দুপুর ১২টায় পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্ট থেকে দীর্ঘ এই পদযাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। কর্মসূচি শুরুর আগে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে সমবেত হয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাত শেষে নেতৃবৃন্দ স্থলবন্দর এলাকার সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের মাঝে তিন দফা দাবিসংবলিত প্রচারপত্র বিতরণ করে পদযাত্রা এগিয়ে নেন।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত এই পদযাত্রা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এরপর আগামী ১৮ ডিসেম্বর রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় মহাসমাবেশ আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই আন্দোলনের সমাপ্তি টানা হবে। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে উত্থাপিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—শহীদ ওসমান বিন হাদী হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা, জাতীয় গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই অভ্যুত্থান, শাপলা চত্বর ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে অবস্থানরত অভিযুক্ত খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মুখোমুখি করার আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

পঞ্চগড়ের এই কর্মসূচিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনের কর্মসূচিতে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে পায়ে হেঁটে প্রায় ২১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তেঁতুলিয়া সদরে গিয়ে পদযাত্রা শেষ হবে। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে বিভিন্ন হাট-বাজারে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচারপত্র বিলি করবেন সংগঠনের সদস্যরা।

ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, ঘোষিত তিন দফা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন। মার্চ ফর ইনসাফের মাধ্যমে এই দাবির পক্ষে সারাদেশে সুদৃঢ় জনসমর্থন গড়ে তোলা এবং প্রশাসনের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। উদ্বোধনী বক্তব্যে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ মাস পার হয়ে গেলেও মূল অপরাধীদের শনাক্ত ও বিচারের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি।

তিনি জোর দাবি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করতে হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে জাবের বলেন, বাংলাদেশে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং তাদের মূল লড়াই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। বিশ্বের যেকোনো রাষ্ট্র বাংলাদেশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে তারা রাজপথে দাঁড়িয়ে এর বিরোধিতা করবেন।

হাদী হত্যাকাণ্ডে ভারত, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র জড়িত দাবি করে জাবের বলেন, এটিকে সাধারণ কোনো খুনের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এই হত্যাকাণ্ড সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। তাই কালক্ষেপণ না করে এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত বিচার শেষ করতে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান তিনি। এর পাশাপাশি শাপলা চত্বর, পিলখানা ও জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিতে সরকারকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মার্চ ফর ইনসাফের মাধ্যমে জনসমর্থন তৈরি করে তারা মূলত রাষ্ট্র সংস্কারে সরকারকে সহযোগিতা করতে চান। কিন্তু দাবি বাস্তবায়নে অযথা গড়িমসি করা হলে কিংবা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার ষড়যন্ত্র দেখা দিলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।