সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আবারও পিছিয়েছে। রবিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। পূর্বনির্ধারিত দিন থাকলেও তদন্তকারী সংস্থা প্রতিবেদন জমা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রবিবার মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূইঞা আদালতে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। তদন্ত সংস্থা কোনো অগ্রগতি প্রতিবেদন বা চূড়ান্ত নথি উপস্থাপন না করায় বিচারক শুনানি শেষে আগামী ৩ নভেম্বর প্রতিবেদন জমার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এর আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন মামলার বাদী।
গত ১৫ জানুয়ারি ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ও মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের একই আদালতে গোয়েন্দা পুলিশ ডিবির দাখিল করা অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিক নারাজি আবেদন দাখিল করেন। আদালত বাদীর সেই নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটির রহস্য উদঘাটনে সিআইডিকে পুনরায় অধিকতর তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মতিঝিলে জুমার নামাজ আদায় করে নির্বাচনী প্রচার শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে হাদির ওপর বর্বরোচিত হামলাটি চালানো হয়েছিল।
গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিল এলাকায় জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনী প্রচারণা সম্পন্ন করেন শহীদ ওসমান হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছামাত্র মোটরসাইকেল আরোহী দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ওই দিন দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করার পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে আকাশপথে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে টানা কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হামলার ঘটনার পর পরই পল্টন থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে প্রথম মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে স্বেচ্ছায় গুরুতর রক্তক্ষয়ী জখম এবং দুষ্কর্মে সহায়তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়মিত হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন