সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ধার্য দিন আজ। রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত কার্যসূচি রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হওয়ায় ইতিপূর্বে কয়েক দফায় প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা পেছানো হয়েছিল। সর্বশেষ গত ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত আজকের দিনটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুনর্নির্ধারণ করেন।
গোয়েন্দা পুলিশের পূর্ববর্তী তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজি আবেদনের পরই শুরু হয় এই অধিকতর তদন্ত। এর আগে মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে ছিল গোয়েন্দা পুলিশ। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করে সংস্থাটি। ওই অভিযোগপত্রে ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয় এবং সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীসহ আরও কয়েকজনের নাম অভিযুক্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে গোয়েন্দা পুলিশের সেই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে আনুষ্ঠানিক নারাজি আবেদন জানান মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। আদালত তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিলে তদন্তের দায়িত্ব পায় অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের বিষয়টিকে হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সংস্থাটির অভিযোগপত্রে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং সাধারণ ভোটারদের মনে আতঙ্ক তৈরি করতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা সম্পন্ন করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন হাদি। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় তাঁর অটোরিকশা পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহী সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ হাদিকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচার শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় গুলি করার পরপরই গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছিলেন আবদুল্লাহ আল জাবের, যা হাদির মৃত্যুর পর পূর্ণাঙ্গ হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন